1. admin@bartamannews.com : admin :
  2. news1@gmail.com : News 1 : News 1
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গারো পাহাড়ে পাথর-বালু লুট, হুমকিতে প্রকৃতি ‘পুলিশের প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের অধিকার আছে’: জাহেদ উর রহমান মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার চেষ্টা দেখছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে মিরপুর-১১ মেট্রোস্টেশন বন্ধ ১২ কেজি এলপিজির দাম বেড়ে ২,০৬০ টাকা বাস চালু করায় নারায়ণগঞ্জ কলেজ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানালেন আবিদ রহমান ভাটারায় হত্যা চেষ্টা মামলা: সাবেক এমপি বিএম মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ ট্রাক্টর নিয়ে মাঠে শিক্ষার্থীরা, ভাঙা হচ্ছে বাণিজ্য মেলার স্থাপনা সৌদির বিমান হামলায় ইয়েমেনের বন্দর ও তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, আহত ৭

গারো পাহাড়ে পাথর-বালু লুট, হুমকিতে প্রকৃতি

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত

মোঃ বিল্লাল হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা শেরপুরের গারো পাহাড়। সবুজে মোড়ানো পাহাড়, আঁকাবাঁকা নদী, স্বচ্ছ জলধারা আর ঝরনার মুগ্ধকর দৃশ্য প্রতিবছর আকর্ষণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের। অথচ সেই সৌন্দর্যের বুক চিরেই চলছে পাহাড় কেটে পাথর ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের এমন কর্মকাণ্ডে ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য, নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। একই সঙ্গে অনিশ্চয়তায় পড়েছে শেরপুরের সম্ভাবনাময় পর্যটনশিল্প।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে এবং নদী-ঝরনা থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে চক্রটি। দিনের বেলায় উত্তোলিত পাথর-বালু বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়। পরে রাতের আঁধারে ঘোড়ার গাড়ি, ভ্যান, ট্রলি, মাহিন্দ্র ও ট্রাকযোগে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

গারো পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণ গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্র। পাহাড়ের সবুজ বনভূমি, টিলা, নদী ও ঝরনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে ১৯৯৩ সালে গড়ে ওঠে এই পর্যটনকেন্দ্র। একসময় গজনীকে কেন্দ্র করে শেরপুরে পর্যটনশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য পর্যটক এখানে ছুটে আসেন। এই পর্যটনকেন্দ্র থেকে সরকারও রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা ও অবৈধ পাথর-বালু উত্তোলনের কারণে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালঘোষা নদীর গান্ধিগাঁও, দরবেশতলা, হালচাটি, মালিটিলা, বাকাকুড়া, গজনী ও ছোট গজনীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাথর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এমনকি সংরক্ষিত বনাঞ্চলেও চলছে এ কর্মকাণ্ড—এমন অভিযোগ রয়েছে। শতাধিক শ্রমিক বেলচা, কোদালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে পাহাড় কেটে এবং নদী-ঝরনা থেকে পাথর-বালু সংগ্রহ করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, উত্তোলিত পাথর-বালু প্রথমে টুকরি ও মাথায় করে বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জমা করা হয়। পরে রাত ১২টার পর ঘোড়ার গাড়ি, ভ্যান, ট্রলি, মাহিন্দ্র ও ট্রাকযোগে উপজেলা ও জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলে এই পরিবহন কার্যক্রম।

পরিবেশসচেতন ব্যক্তিদের মতে, এভাবে পাহাড় কাটা ও নদী-ঝরনা থেকে পাথর-বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরিবর্তিত হবে পাহাড়ের স্বাভাবিক ভূমিরূপ, ব্যাহত হবে নদী ও ঝরনার প্রবাহ। ধ্বংস হবে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য। পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণ হারাবে গারো পাহাড়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে।

এদিকে অবৈধ উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, যানবাহন আটক, জরিমানা ও কারাদণ্ডের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গত ৩ জুন রাতে বালুভর্তি চারটি মাহিন্দ্র গাড়ি আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তোলনকারীদের হামলায় গজনী ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা মো. সালেহীন নেওয়াজ ও জিয়াউর রহমান নামে এক বনপ্রহরী আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকে বন বিভাগের তৎপরতা কমে গেছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে রাংটিয়া ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিবউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। গজনী ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা মো. সালেহীন নেওয়াজ বলেন, নদীর বালু জেলা প্রশাসনের আওতাধীন। তাই বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গারো পাহাড় শুধু পাথর-বালুর উৎস নয়; এটি শেরপুরের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটনশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই সম্পদ ধ্বংস হলে তার ক্ষতি সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও পাথর-বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান, জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে রক্ষা পাবে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটনের সম্ভাবনা।

ব/নি-ব/ত

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বর্তমান নিউজ
Theme Customized By Shakil IT Park