
বর্তমান নিউজ ডেস্ক :
নারায়ণগঞ্জে কুকুরের কামড়ের পর প্রয়োজনীয় রেবিস ভ্যাকসিন না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল–এ কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন (অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন) সরবরাহ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের জানাচ্ছেন, স্টকে ভ্যাকসিন না থাকায় তারা দিতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুকুরের কামড়ের পর জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে তাদের টিকাদান সেবা না দিয়ে অন্যত্র যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গিয়ে কয়েক হাজার টাকা খরচ করে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন। নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য এটি বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন অভিভাবক জানান, তার শিশুকে রাস্তার কুকুর কামড় দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে ভ্যাকসিন না থাকায় সময় নষ্ট হয় এবং পরে প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে টিকা দিতে হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুরের কামড়ের পরপরই ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত রেবিস ভ্যাকসিন শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজন হলে রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG) দিতে হয়। সময়মতো ভ্যাকসিন না নিলে রেবিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরবরাহ না থাকায় ভ্যাকসিন সংকট তৈরি হয়েছে। তবে কবে নাগাদ নতুন চালান আসবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল বলছেন, জেলা পর্যায়ের প্রধান সরকারি হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিনের মতো জরুরি টিকার ঘাটতি থাকা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—জরুরি ও জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন যদি সরকারি হাসপাতালে না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।