
বর্তমান নিউজ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডেটা সেন্টার খাতে নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে। একই দিনে বিশ্বের শীর্ষ সাত প্রযুক্তি কোম্পানির সম্মিলিত বাজারমূল্য কমে যায় প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার। এপি, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
শুক্রবার এশিয়ার বাজারেও বড় দরপতন দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি প্রায় ৬ শতাংশ কমে। কোস্পির দরপতন একপর্যায়ে ৮ শতাংশ ছাড়ালে সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দামও প্রায় ৯ শতাংশ কমে। আনাদোলু
ইউরোপের বাজারেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী জয় এবং ডেটা সেন্টার নির্মাণে সম্ভাব্য বিধিনিষেধের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা আদৌ আসবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার নাসডাকের দরপতনে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমে। এপি জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর টেসলার শেয়ার ১০ দশমিক ১ শতাংশ এবং স্পেসএক্সের শেয়ার ৫ শতাংশ কমেছে। এপি
এ জে বেলের বাজার বিশ্লেষক ড্যান কোটসওয়ার্থের মতে, এআই খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, কিন্তু সেই বিনিয়োগ থেকে কবে বা আদৌ প্রত্যাশিত আয় আসবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় জনমতের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট ও সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যান। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমর্থন ছাড়া নতুন অবকাঠামো নির্মাণ কঠিন; তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে আস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।
এদিকে, শেয়ারবাজারের পতনের জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি এআই খাতের সম্ভাবনার প্রতি সমর্থনও জানিয়েছেন। মার্কিন নির্বাচনের ফল, ডেটা সেন্টার নির্মাণের ভবিষ্যৎ এবং এআই বিনিয়োগের মুনাফা—এই বিষয়গুলোই এখন প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
ব/নি-ব/জ