
বর্তমান নিউজ ডেস্ক :
পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। নগরীর অধিকাংশ এলাকায় বাসা-বাড়িতে নেই পানি, ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সেহরি ও ইফতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পানি না থাকায় রোজাদারদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
সেহরি-ইফতারে বিপাকে হাজারো পরিবার
নগরীর চাষাড়া, খানপুর, মাসদাইর, দেওভোগ, ফতুল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক জায়গায় দিনে একবারও লাইনে পানি আসছে না। ভোরে সেহরির সময় পানি না থাকায় রান্না, অজু ও থালা-বাসন ধোয়া নিয়ে বিপাকে পড়ছেন গৃহিণীরা। একইভাবে ইফতারের সময়ও পানির সংকটে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কার্যক্রম।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রমজানের মতো পবিত্র মাসে যদি পানি না পাই, তাহলে কিভাবে রোজা রাখবো? বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাইনি।”
বিকল্প উপায়ে পানি সংগ্রহ
পানির অভাবে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে গভীর নলকূপ, প্রতিবেশী এলাকা কিংবা মসজিদের টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ আবার টাকা দিয়ে ড্রামভর্তি পানি কিনে ব্যবহার করছেন। এতে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পানি সংকট চলতে থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব না হলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। রমজানে যেখানে পরিচ্ছন্নতা ও ইবাদতের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে পানির অভাব জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে।
সিটি কর্পোরেশনের ওয়াসা বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নগরবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন-এর ওয়াসা বিভাগ কার্যত ঘাপটি মেরে আছে। কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই বলেই দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। লাইন মেরামত, পাম্প সচল রাখা বা বিকল্প পানিবাহী গাড়ির ব্যবস্থা—কোনোটিই চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ।
দায়িত্ব নেবে কে?
এমন পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—রমজানের মধ্যে এ ভোগান্তির দায়িত্ব নেবে কে? অবিলম্বে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। প্রয়োজনে অস্থায়ীভাবে পানিবাহী গাড়ির মাধ্যমে পানি সরবরাহ ও ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামতের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নগরবাসী বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে কতটা আন্তরিক ও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে।