
বর্তমান নিউজ ডটকম:
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর বহুল আলোচিত হকার জুবায়ের হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া ছয় আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। আদালতে পাঁচজন আসামি উপস্থিত থাকলেও একজন ছিলেন পলাতক।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা: ১. মো. ইকবাল হোসেন (৩৭), সোনারগাঁয়ের বরুমদী এলাকার আব্দুস সামাদ মুন্সীর পুত্র, ২. মো. স্বপন (৪৯), নারায়ণগঞ্জের বন্দরের নূর ইসলামের পুত্র, ৩. সায়মন ওরফে ইউনুস মিয়া (২৬), কুমিল্লার মুরাদনগরের মো. আব্দুল মান্নানের পুত্র ও ৪. মো. আনোয়ার হোসেন সানি (২৭), মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মো. মুহিতুর রহমানের পুত্র।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা: ১. মো. হাছান আল মামুন (২২), কুমিল্লার মুরাদনগরের মো. কবির হোসেনের পুত্র ও মো. রাসেল হোসেন (২৭), কুমিল্লার বাঙ্গারা বাজার এলাকার বাসিন্দা (পলাতক)।নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. কাইউম খান মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার বাদী ও নিহত জুবায়েরের মা মুক্তা বেগম বলেন, *”আমার একমাত্র ছেলে জুবায়ের সংসারের হাল ধরতে ফুটপাতে জুতা বিক্রি করতো। সেই ছেলেকে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে, হাত কেটে ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আজ আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আমি বিচার পেয়েছি।”*
২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে বলাকা পেট্রোল পাম্পের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর জেরে, প্রতিপক্ষের হাতে নির্মমভাবে খুন হন ১৭ বছর বয়সী হকার জুবায়ের। হামলাকারীরা ছুরিকাঘাত করে, হাতের কব্জি কেটে ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে জুবায়েরকে হত্যা করে।
সরকারি কৌঁসুলি মাছুদা বেগম শম্পা বলেন, *“এটি ছিল পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। আদালতের এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমাজে এটি একটি বার্তা দেবে—খুন করে কেউ পার পাবে না।”*
জুবায়ের হত্যার বিচারিক প্রক্রিয়া অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষ হয়েছে। তবে পলাতক আসামি রাসেল হোসেন এখনও ধরা না পড়ায় রায় সম্পূর্ণ রূপে কার্যকর হয়নি। সমাজের প্রান্তিক এক কিশোরের জীবনের এমন নিষ্ঠুর পরিণতির বিচার দেখে শহরবাসীর বুকের ভার কিছুটা হলেও হালকা হয়েছে।