
নিজস্ব প্রতিবেদক।বর্তমান নিউজ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মজুত করে রাখা ১ হাজার ৫০০ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট গোডাউনটি সিলগালা করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুতের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দামুড়হুদা উপজেলার বিএডিসির সার ডিলার ‘নাঈম অটোমোবাইল ও বীজ ভাণ্ডার’-এর একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় মজুত করা সারের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ডিলার।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ সরকার যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গোডাউনটিতে বিপুল পরিমাণ সার মজুত রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে ৩৭০ বস্তা টিএসপি, ১ হাজার ১২০ বস্তা ডিএপি এবং ১০ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা সারের পরিমাণ ১ হাজার ৫০০ বস্তা। অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেনের উপস্থিতিতে গোডাউনটি সিলগালা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব সার মজুত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ সরকার ঢাকা পোস্টকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিএডিসির সার ডিলারের গোডাউনে যৌথ অভিযান চালিয়ে তিন ধরনের মোট ১ হাজার ৫০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এসব সারের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি ডিলার। এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষ্ণ সরকার বলেন, যেহেতু এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাই লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে, এ ঘটনায় মামলা ও কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তা জানতে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।