
মোঃ বিল্লাল হোসেন | শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের হালিমা খাতুনের জীবন কাটছে চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায়। স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত হওয়ার অভিযোগ, আর্থিক সংকট এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিশেহারা তিনি। নিজের ও ছোট মেয়ে হাসির (৪) ভরণপোষণ জোগাতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাঁকে।
হালিমা খাতুন মরহুম হযরত আলীর মেয়ে। তাঁর বাবা দিনমজুর ছিলেন। প্রায় ১৫ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারে অভাব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বর্তমানে তাঁর ভাই আলাদা সংসার করছেন। অন্যদিকে, হালিমার মা রাশেদা বেগম অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে মেয়ের ও নাতনির ভরণপোষণের চেষ্টা করছেন। সামান্য আয়ে তাঁদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পারিবারিক জীবনে হালিমা খাতুন নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় দুই সন্তানের মা হওয়ার পরও তাঁকে স্বামীর সংসার ছাড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রায় দুই বছর আগে তাঁর দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্মের পর চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয় বহন করতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে শিশুটিকে দত্তক দিতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে। বর্তমানে ছোট মেয়ে হাসিকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হালিমা।
স্থায়ী আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাবার ও নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় মা-মেয়ের জীবন কাটছে চরম কষ্টে। কখনো খাবার জুটলেও কখনো অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয় তাঁদের। সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়া এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই এখন হালিমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
হালিমা খাতুনের এই দুরবস্থায় তাঁর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা, নিরাপদ বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে নতুন করে জীবন গড়ার পথ তৈরি হতে পারে তাঁর।
হালিমা খাতুনের পাশে দাঁড়াতে যোগাযোগ করুন: ০১৮৯৪৫৯৪৯৬১
একটু সহযোগিতা ও সহমর্মিতা হয়তো হালিমা ও তাঁর সন্তানের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।