
নিজস্ব প্রতিবেদক।বর্তমান নিউজ
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মো. শাহজালাল হক (২৩) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আদিতমারী উপজেলার ২ নম্বর ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম ভেলাবাড়ী নামুড়ীর পাড় এলাকার মাদরাসাতু তাহফিযীল কুরআন সুন্নিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী ওই শিশু।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল শিশুটি। এ সময় মাথা টিপে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক শাহজালাল হক তাকে নিজের বিছানার কাছে ডেকে নেন। পরে শিশুটি নিজের বিছানায় ফিরে যেতে চাইলে শিক্ষক তার মুখ রুমাল দিয়ে চেপে ধরে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে ক্ষতি করার ভয়ও দেখানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ভয়ে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরদিন বাড়ি ফিরে শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অস্থিরতার কথা পরিবারের সদস্যদের জানায় শিশুটি। পরে তার বাবা মো. আরিফুল ইসলাম স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় গেলে অভিযুক্ত শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জানান, শিক্ষক ছুটিতে বাড়িতে গেছেন এবং ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় ফিরে এলে মাদরাসার সভাপতি মো. মোশারফ হোসেনের বাড়ির উঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাক্ষী ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন। পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব জানান, ভুক্তভোগীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।