
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিল বালুর মাঠের কোরবানির পশুর হাট থেকে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির সাত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়েই তারা আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দীন মন্তু, সাগর প্রধান, শেখ মোহাম্মদ অপু, দেলোয়ার হোসেন খোকন, আবুল বাশার বাদশা খান, মাজহারুল ইসলাম ও আরমান হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট হাটের আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলের হাটে প্রায় ৫ হাজার পশুর হাসিল আদায় করা হলেও হিসাব দেখানো হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার পশুর। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার হিসাব গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে আরও প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মমতাজ উদ্দীন মন্তু ৮ নম্বর ওয়ার্ডের, আরমান হোসেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এবং মাজহারুল ইসলাম ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশুর হাটের ইজারা নেন। একই সঙ্গে তারা হাট পরিচালনা কমিটির দায়িত্বেও ছিলেন। ফলে ইজারা, পরিচালনা ও লভ্যাংশ—সব ক্ষেত্রেই তাদের প্রভাব ছিল।
এ ঘটনায় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, লভ্যাংশের প্রকৃত হিসাব গোপন করা হয়েছে এবং অনেক বিনিয়োগকারী এখনো তাদের মূলধন ফেরত পাননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। ইজারাদার মমতাজ উদ্দীন মন্তুও জানিয়েছেন, প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নেতাকর্মীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো অভিযোগকারীদের বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে