
মো. সেলিম উদ্দিন। দেখতে পুরোদস্তর একজন আইনজীবী। সাদা জামার ওপর কালো কোট। গলায় কলার ব্যান্ড (গলাবন্ধনী)। নিজের নামে ব্যবহার করেন সিল। আসলে আইনজীবী নন তিনি। বার কাউন্সিলের কোনো সনদও নেই তার। আইনজীবীদের ভাষায় তিনি একজন ‘টাউট’। সেলিম উদ্দিন ১৭ বছর ধরে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন বিচারপ্রত্যাশী ও আদালতের সঙ্গে।
বুধবার তার প্রতারণা ধরা পড়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আইনজীবীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তিনি স্বীকার করেছেন তার কোনো সনদ নেই। ইতোমধ্যে সনদ ছাড়াই আইন পেশার নামে প্রতারণার অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। তার নামে প্রতারণার মামলা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহসম্পাদক ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির সমকালকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট মূল ভবনের নিচ তলায় ২৩ নম্বর হাইকোর্টে মামলা শুনানিকালে একজন আইনজীবীর পেছন থেকে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিচ্ছিলেন সেলিম উদ্দিন। এ সময় কয়েকজন আইনজীবীর সন্দেহ হয়। আদালতের ভেতরেই তাকে চ্যালেঞ্জ করেন অপর আইনজীবীরা। এক পর্যায়ে তাকে বাইরে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর নিয়ে যাওয়া হয় সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের দ্বিতীয় সমিতির কক্ষে। সেখানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের ওই ব্যক্তির কাছ থেকে তার নামে থাকা সিল ও কয়েকজন আইনজীবীর ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন জানান, তিনি ২০০৭ সালে আইনে স্নাতক করেছেন। তবে তার বার কাউন্সিলের কোনো সনদ নেই। ওই সময় থেকে তিনি ঢাকার আদালতে এবং ২০১৮ সাল থেকে হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে যাতায়াত করছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তাদের মামলায় জিতিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার পরিচিত আইনজীবীদের কাছে নিয়ে যেতেন।