
নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যত ক্ষমতাধর ব্যক্তিই জড়িত থাকুন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে শাকিলের কবর জিয়ারত এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাকিব এ কথা বলেন।
রাকিব জানান, শাকিলকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাঁর পাশে ছিল এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছে। হামলার পর স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে তাঁর অভিযোগ, তদন্তে গাফিলতি ও সময়ক্ষেপণ হয়েছে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে রাকিব বলেন, নাটোরের পুলিশ সুপার আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে যাঁরা ইন্ধন দিয়েছেন বা অর্থ জুগিয়েছেন, তাঁদেরও তদন্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রাকিবের অভিযোগ, শাকিল হত্যাকাণ্ডে যুবলীগ কর্মী রাসেল গং নামে এক প্রবাসীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ওই ব্যক্তি ডিভি লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আটক করার আহ্বান জানান ছাত্রদল সভাপতি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন শাকিল। মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরা দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পরে তাঁকে ধাওয়া করে ধরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।
স্থানীয়রা শাকিলকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাছারিপাড়া এলাকার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে।