
নিজস্ব প্রতিবেদক।বর্তমান নিউজ
আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। হামজা-জামালদের খেলা মাঠে বসে দেখতে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। ক্লাব হাউস, ভিআইপি ও রেড বক্সের টিকিটের দাম আরও কয়েক গুণ বেশি। টিকিটের এমন চড়া দামে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফুটবল সমর্থক ও সাবেক খেলোয়াড়রা।
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি মনে করেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা অত্যন্ত বেশি। নিজের একাধিক সাফ টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ইতোমধ্যে অনেক সমর্থক টিকিটের দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
টিকিটের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল জানিয়েছেন, একটি টিকিটে দুটি ম্যাচ দেখার সুযোগ এবং মার্কেটিং কোম্পানির বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সাফের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন এমিলি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ম্যাচেই মূলত দর্শকদের উপস্থিতি বেশি থাকবে। অন্য ম্যাচগুলোতে গ্যালারি পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তা ছাড়া দুটি ম্যাচের মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টার ব্যবধান থাকায় দর্শকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। তাঁর মতে, ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হলে তা আরও যৌক্তিক হতো।
দেশের ফুটবলে সমর্থকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও টিকিটের উচ্চমূল্য তাঁদের মাঠে আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সমর্থকগোষ্ঠী ইতোমধ্যে টিকিটের দাম নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। কয়েকটি গ্রুপ টিকিটের মূল্য কমানোর দাবি জানিয়েছে। দাবি পূরণ না হলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ৯ গোল হজম করার পর ফুটবলারদের পারফরম্যান্স ও শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতেও জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে গ্যালারিতে যেতে চান সমর্থকরা। কিন্তু টিকিটের উচ্চমূল্য তাঁদের সেই আগ্রহে বাধা সৃষ্টি করছে।
হামজা চৌধুরী বাংলাদেশ দলে যোগ দেওয়ার পর জাতীয় দলের ঘরের মাঠের ম্যাচগুলোর টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। সিঙ্গাপুর, ভারত ও হংকংয়ের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তিন ম্যাচে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ছিল ৪০০ টাকা। অথচ এবার সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার টাকায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস বলেন, টিকিটের দাম অবশ্যই বেশি। তবে এ ক্ষেত্রে বাফুফের কিছু করার ছিল না। সাফ কর্তৃপক্ষই টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করেছে এবং এ বিষয়ে বাফুফের কাছে কোনো প্রস্তাব বা মতামতও চাওয়া হয়নি।
গত কয়েক মাসে টিকিটিং, স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাফুফে ও সাফের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাফুফেকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার এবং অন্যান্য ব্যয় সাফের বহন করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ভিত্তিতে মার্কেটিং পার্টনারের মতামত নিয়ে টিকিটের দাম নির্ধারণ করেছে সাফ।
সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাফুফে সভাপতির মেয়াদে ২০০৯ ও ২০১৮ সালে ঢাকায় সাফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। ওই দুই আসরে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ছিল ৫০ টাকার মধ্যে। এবার সেই টিকিটের দাম এক লাফে ১ হাজার টাকা হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন জানান, সাফের নিয়মিত মার্কেটিং পার্টনার স্পোর্টস ফাইভের সঙ্গে চুক্তি না থাকায় আন্তর্জাতিক স্পন্সর পেতে সময় লাগছে। এ কারণে এবারের টুর্নামেন্টের জন্য টিএসএ নামের একটি মার্কেটিং কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাফুফের রয়্যালটি, স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি এবং দল ও রেফারিদের যাতায়াতসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সালাউদ্দিনের ভাষ্য, এত ব্যয়ের পর মার্কেটিং পার্টনারের বিনিয়োগ তুলে আনা কঠিন। তিন বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করতে গিয়ে টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সাফের পুরুষদের সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ অতীতে সংস্থাটির আয়ের অন্যতম উৎস ছিল। এ টুর্নামেন্ট থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে অন্যান্য প্রতিযোগিতাও পরিচালনা করা হতো। তবে স্পোর্টস ফাইভের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে বাংলাদেশি মার্কেটিং কোম্পানি টিএসএ টুর্নামেন্টের স্বত্ব কিনে আয়োজনের জন্য অর্থ দেয়।
চুক্তি অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট পরিচালনার পাশাপাশি বাফুফেকে রয়্যালটি দেবে সাফ। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের স্পন্সরশিপ, টিকিট, টেলিভিশন ও মাঠের স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে আয় করবে টিএসএ।
তবে টিকিটের দাম বেশি হওয়ায় দর্শকসংখ্যা কমে গেলে মার্কেটিং কোম্পানির প্রত্যাশিত আয় নিয়েও শঙ্কা তৈরি হতে পারে। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, টিকিটের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে রাখা হলে আরও বেশি দর্শক মাঠে আসতে পারতেন। এখন সমর্থকদের মাঠে উপস্থিতি কতটা থাকে, সেটিই দেখার বিষয়।