
নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের অসঙ্গতি বিদেশে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ এবং অন্যান্য সরকারি নথির তথ্যের মিল না থাকলে বিদেশি দূতাবাসগুলো অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করে। এতে ভিসা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আবেদন প্রত্যাখ্যাতও হতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আবেদনকারীদের একটি অংশ শুধুমাত্র তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে নানা ধরনের সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে নামের বাংলা ও ইংরেজি বানানের পার্থক্য, জন্মতারিখের অমিল কিংবা পিতামাতার নামের ভিন্নতা ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি আরও বলেন, পাসপোর্ট তৈরির সময় আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভুল সংশোধন করে নিতে হবে। কারণ একবার ভুল তথ্য পাসপোর্টে অন্তর্ভুক্ত হলে পরবর্তীতে তা সংশোধন করতে সময় ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশন বর্তমানে আবেদনকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে উন্নত যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। ফলে পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে অন্য সরকারি নথির সামান্য অমিলও ভিসা অনুমোদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশ ভ্রমণ বা কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা থাকলে পাসপোর্ট, এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিতে একই ধরনের তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। এতে ভিসা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
এদিকে, বিদেশগামীদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সঠিক তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট তৈরির পাশাপাশি কোনো ধরনের ভুয়া বা জাল নথি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সচেতনতা ও সঠিক তথ্যই ভিসা জটিলতা কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়।