
নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আজ সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একসময় সাংবাদিকতা ছিল সত্য উদঘাটন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং জনস্বার্থ রক্ষার একটি সম্মানজনক পেশা। কিন্তু বর্তমানে অনেক এলাকায় কথিত সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত সাংবাদিকরা নানা সংকটের মুখে পড়ছেন।
বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দালালি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়, কিংবা প্রথমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পরে অর্থের বিনিময়ে ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু সাংবাদিকতা পেশার জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই উদ্বেগজনক।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ একজন সত্যিকারের সাংবাদিকের কাজ হলো তথ্য যাচাই করে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশ করা, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা নয়।
এখন প্রশ্ন হলো—প্রকৃত সাংবাদিকরা কোথায় যাবেন? কীভাবে তারা স্বাধীন ও নির্ভয়ে সাংবাদিকতা করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে সাংবাদিক সংগঠন, সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা, জবাবদিহিতা এবং পেশাগত নৈতিকতার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
অপসাংবাদিকতার বিস্তার রোধ করা না গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানুষের সংবাদমাধ্যমের প্রতি আস্থা। তাই সময় এসেছে প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা এবং সাংবাদিকতার নামে সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার।
সাংবাদিকতা কোনো চাঁদাবাজির লাইসেন্স নয়, কোনো দালালির পেশাও নয়। সাংবাদিকতা সত্য, সততা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারের নাম।