
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ দেশব্যাপী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, ফাতেহা পাঠ, গণভোজ, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি এবং স্মরণসভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক, যিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সংকটময় সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কৃষি ও শিল্পখাতের উন্নয়ন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীলতা ও উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে শুরু করে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়াউর রহমানের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এবং মানবিক সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। অনেক স্থানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও রক্তদান কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়।
জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষাংশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার শান্তি কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
সারাদেশে ব্যাপক অংশগ্রহণ ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত এই শাহাদাত বার্ষিকী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, দেশপ্রেম ও অবদানের প্রতি জনগণের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।