
বর্তমান নিউজ ডেস্ক :
নারায়ণগঞ্জ সদর প্রতিনিধি।
নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ত্যাগী নেতা মাসুদ খান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা প্রায় ১৭ বছর ধরে নজিরবিহীন রাজনৈতিক নিপীড়ন, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে তাকে বারবার টার্গেট করা হয়েছে, সাজানো মামলায় হয়রানি করা হয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নারায়ণগঞ্জে বিরোধী রাজনীতির কণ্ঠ রোধ করতে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়। এর অন্যতম ভুক্তভোগী ছিলেন মাসুদ খান। একের পর এক মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্ক, হামলার হুমকি এবং সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অনেক সময় তাকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, এই দীর্ঘ নির্যাতনের সময় দলীয় রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকেও অনেকেই তার পাশে দাঁড়াননি। তবুও তিনি হতাশ হননি, ভেঙে পড়েননি। নির্যাতনের মাঝেও মাসুদ খান বিএনপির আদর্শ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস অটুট রেখেছেন।
ঘনিষ্ঠজনরা জানান, প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে না পারলেও মাসুদ খান নীরবে সংগঠনের জন্য কাজ করে গেছেন। নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিয়েছেন, দুঃসময়ে সাহস জুগিয়েছেন এবং দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন। বারবার হামলা-মামলার শিকার হয়েও কখনো ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আপস করেননি, আদর্শ বিকিয়ে দেননি।
বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি আবারও সরাসরি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন। এ বিষয়ে মাসুদ খান বলেন,
“১৭ বছর আমাকে দমন করার চেষ্টা হয়েছে। মামলা দিয়ে, হামলা দিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু বিএনপিকে ভালোবাসা আমার রক্তে। কেউ পাশে না দাঁড়ালেও আমি দলের পাশে থেকেছি, এখনো আছি।”
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, মাসুদ খানের মতো নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতারাই প্রকৃত রাজনীতির প্রতীক। তারা বলেন, সুবিধাভোগী রাজনীতির যুগে মাসুদ খানের মতো নেতারা প্রমাণ করেছেন—নির্যাতন আদর্শকে দমাতে পারে না।