
নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জকে পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পৃথক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজউকের নকশা বা প্ল্যান অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করে ২৪ দিনের মধ্যে অনুমোদনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুরে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক নগরী। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও আবাসন সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ নগরীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই নারায়ণগঞ্জের জন্য পৃথক ও সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাস্টারপ্ল্যানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার সুষ্ঠু বিন্যাস, সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাধার ও খোলা জায়গা সংরক্ষণ এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্ল্যান অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের হয়রানি কমাতে রাজউকের সেবা কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেকোনো প্ল্যান ২৪ দিনের মধ্যে অনুমোদনের ব্যবস্থা করার জন্য কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর কাছে দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন সেবা পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতা সম্প্রসারণের বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী। ফতুল্লা, সোনারগাঁসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ভবিষ্যতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় আনা যায় কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা এবং নগরবাসীর দোরগোড়ায় উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। পরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ করা গেলে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, যানজট, জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যাও পর্যায়ক্রমে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
এনডিএ চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় নগরবাসীর প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য, আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলাই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অন্যতম লক্ষ্য।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও পরিকল্পিত নগরায়ণের বিষয়ে সরকারের এ উদ্যোগকে গুরুত্ব দেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পৃথক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সুফল নিশ্চিত করতে মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, নিয়মিত তদারকি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন জরুরি।
সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জের নগর উন্নয়ন, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।