
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
গণতন্ত্রকে কেবল ভোটাধিকার ও নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারিত্ব, স্বাধীনতা, জবাবদিহি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে Civic Youth Bangladesh (CYB)-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘Celebrating the International Day of Democracy 2026’ অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ‘Democracy, Governance and Public Trust’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গণতন্ত্র কার্যকর করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেশাদার, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তব রাজনৈতিক চর্চায় প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক আচরণ ও কার্যক্রমের মধ্যেও দৃশ্যমান হতে হবে।
তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে যাওয়া নয়; বরং নিয়মিতভাবে জনগণের কথা শোনা, তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা বোঝা, দেওয়া প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি সম্পর্কে জবাব দেওয়া এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা।
আব্দুল্লাহ আল আমিন আরও বলেন, নতুন প্রজন্ম আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। তারা রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি তাদের বাস্তব কর্মকাণ্ডও পর্যবেক্ষণ করবে। ফলে ভবিষ্যতের রাজনীতিতে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির গুরুত্ব আরও বাড়বে।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, সুশাসন, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং জনগণের আস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও কার্যকরভাবে চর্চার বিষয়ে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শাহনেওয়াজ খান চন্দন। প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন সংসদ সদস্য আজিজুল বারি হেলাল, সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ, সাবেক নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল আলিম এবং ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম।