
বিশেষ প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলামকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বদলি করা হয়। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে উঠা নানা অভিযোগ ও সমালোচনার মধ্যে এই বদলী নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি– একটি তেল পাম্পে পাবলিককে অশালীন গালি ব্যবহারের ভিডিও প্রশাসনিক খমতা দেখিয়ে প্রথমে মিডিয়ায় প্রকাশ করতে না দেওয়া, পুকুর লিজ সংক্রান্ত বিষয়ে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ এবং চিহ্নিত ভূমি দস্যুদের দৌরাত্ব বৃদ্ধির অভিযোগ করেন। এছাড়া পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে অস্বচ্ছতা ও অবহেলার অভিযোগ আছে। সম্প্রতি একজন অতিরিক্ত সচিবের পৌরসভা পরিদর্শন কালে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ না করা সহ নানান অভিযোগ সামনে আসে।
এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ভূুমি অফিসে এনসিপির লোক জনের আধিপত্যের অভিযোগ ছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যমান একটি গ্রুপের বলয়ে চলে যায় ভূমি অফিস। অন্য গ্রুপের অভিযোগ তাদের কোন কাজ হয়না। বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের পর এই অভিযোগ আরো জোরালো হয়। সাংগঠনিক ভাবে তারা ভূমি অফিসের শৃংখলা ফেরানোর চেষ্টা করে। এই বদলি আদেশ বাতিলের জন্য সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে প্রচারণা আছে। সামিউল ইসলাম দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পাননি—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
ফুলবাড়ী ভূমি অফিসের কার্যক্রমে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের এত প্রভাব ছিল যে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগের কপি কীভাবে যেন ভূমিদস্যু গ্রুপের কাছে চলে যায় এবং এতে নিরাপত্তাহীনতার ঝুকি তৈরী করে।
স্থানীয়দের দাবি, ভূমি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং ভূমি সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয় নিয়ে সহকারী কমিশনার ( ভূমি) সামিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে ওনাকে পাওয়া যায়নি।