
বিশেষ প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় প্রকাশ্য তৎপরতার বাইরে থাকার পর ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন ‘মামা-ভাগ্নে’ হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের তিন নেতা—জাকিরুল আলম হেলাল, শাহাদাৎ হোসেন সাজনু ও মো. জুয়েল হোসেন। তাদের ঘিরে নতুন করে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক তৎপরতার আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তারা অনেকটাই আড়ালে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সাবেক নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
যোগাযোগের ক্ষেত্রে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সাবেক নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের আবার সংগঠিত হওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও কয়েকজনের দাবি।
দুঃসময়ে নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ
সাবেক কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পর অনেক নেতাকর্মী মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেপ্তার ও আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। কিন্তু সে সময় শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকেই তাদের পাশে ছিলেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাবেক কর্মী বলেন, ‘যখন মাঠে ছিলাম তখন নেতৃত্বের নির্দেশে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পর অনেকেই আমাদের খোঁজ নেননি। এখন আবার যোগাযোগ করা হলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’
তাদের দাবি, এ কারণেই যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের একটি অংশ আগের নেতৃত্ব থেকে দূরে সরে নতুন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
ব্যবসায়িক প্রভাব নিয়েও নানা অভিযোগ
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে সংশ্লিষ্টদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। হাট-ঘাট, টেন্ডার ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অতীতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
এছাড়া গার্মেন্টস, পরিবহন ও নৌযান ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে তাদের সম্পৃক্ততার কথাও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখছে বর্তমান নিউজ।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে পুরনো নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর সাবেক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একসময় যারা একই রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন ভিন্ন নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
বিশেষ করে দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকা এবং তাদের আইনি ও পারিবারিক সংকটে সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এনে সাবেক এমপি নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের সঙ্গে একটি অংশের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ বাড়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা পুরনো নেতৃত্ব আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে সাবেক কর্মী-সমর্থকদের সম্পর্ক কতটা পুনর্গঠিত হবে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
‘পদ-পদবি’ ঘিরে কি নতুন তৎপরতা?
স্থানীয় কয়েকজন সাবেক নেতাকর্মীর ভাষ্য, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পদ-পদবি ও সাংগঠনিক অবস্থান ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা থেকেই নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানো হতে পারে।
তবে এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য—এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর কোনো নেতৃত্বের পক্ষে আবার আগের সাংগঠনিক অবস্থান তৈরি করতে হলে মাঠের নেতাকর্মীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার বিষয়টি নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে ‘মামা-ভাগ্নে’ হিসেবে পরিচিত নেতাদের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার আলোচনা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে। তারা সত্যিই মাঠের রাজনীতিতে ফিরছেন, নাকি কেবল সাংগঠনিক যোগাযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন—তা স্পষ্ট হবে তাদের পরবর্তী কর্মকাণ্ডে।