
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের মজুত বাড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন।
খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল প্রায় ১৬ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে।
অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। এদিকে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি মজুত ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। ছয় মাসের ব্যবধানে মজুত বেড়েছে আরও ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন।
মজুতে চালই বেশি
সর্বশেষ মজুতের হিসাবে সরকারি গুদামগুলোতে চাল রয়েছে প্রায় ২০ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন। এর পাশাপাশি গম রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন এবং ধান রয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। সব মিলিয়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে।
সরকারি খাদ্যগুদামে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত থাকায় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাড়ানো হচ্ছে সংরক্ষণ সক্ষমতা
শুধু খাদ্যশস্য মজুত নয়, সরকারি পর্যায়ে খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে দেশের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ২৭ লাখ মেট্রিক টন। আগামী কয়েক বছরে এ সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়লে একদিকে যেমন কৃষকের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ ধান-চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সংকটকালীন সময়ে বাজারে দ্রুত খাদ্যশস্য সরবরাহ করাও সহজ হবে।
আমদানিতেও জোর
দেশের খাদ্য মজুত পরিস্থিতি শক্তিশালী রাখতে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের পাশাপাশি আমদানির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে।
এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে আমদানি করা হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার ৮৬০ মেট্রিক টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য।
খাদ্য নিরাপত্তায় ইতিবাচক বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যশস্যের সরকারি মজুত শক্তিশালী থাকা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাজারে অস্থিরতা কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হলে পর্যাপ্ত সরকারি মজুত থাকলে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
এ ছাড়া ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিম্নআয়ের মানুষের কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছে দিতেও সরকারি মজুত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি খাদ্যশস্য সংগ্রহ, প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি এবং সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগের ফলে সরকারি খাদ্য মজুত ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত হওয়ার পাশাপাশি বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।