
মোঃ বিল্লাল হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড় নদী-ঝরনা থেকে অবাধে পাথর ও বালু লুটপাট দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রকাশ্যে ও গোপনে দিনের বেলায় পাহাড়, নদী-ঝরনা থেকে পাথর-বালু উত্তোলন করে স্তূপ করে রাখে। প্রসাশনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে বিভিন্ন বাহনের মাধ্যমে ওইসব পাথর-বালু চুক্তিভিত্তিক বিক্রি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে
বালু দস্যুরা।এসব বালুদস্যুদের ভয়ংকর ছোবলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পরেছে গারো পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য। অভিযোগ রয়েছে,প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিলাভুমি ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে ১৯৯৩ সালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিনোদন কেন্দ্র। গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসুদের আগম ঘটে। গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর সরকারের কোষাগারে আসে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব। কিন্তু বালুদস্যুদের ভয়ংকর থাবায় একদিকে সরকারি সম্পদ লুট হচ্ছে, অন্যদিকে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। সরেজমিনে
দেখাগেছে, উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালঘোষা নদী, উত্তর গান্ধিগাঁও, দরবেশতলা, হালচাটি, মালিটিলা, বাকাকুড়া, গজনী ও ছোট গজনী এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল, নদী, ঝর্না, ঝোড়া, থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে দেদারছে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর-বালু। জায়গা বুঝে ১৫/২০জনের সংঘবদ্ধ শ্রমিকেরা বেলচা, কোদাল,ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে পাহাড় কেটে নদী-ঝরনা থেকে পাথর ও বালু সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উত্তোলন করা পাথর ও বালু টুকরি দিয়ে মাথায় করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গোপনীয় স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়। পরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে প্রসাশনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সারারাত ঘোড়ার গাড়ি, ভ্যানগাড়ি, ট্রলি, মাহিন্দ্র ও ট্রাকযোগে এসব পাথর-বালু এক শ্রেণীর গ্রাহকদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রতিদিন রাত দশটা থেকে শুরু হয়ে সকাল ৭ টা পর্যন্ত চলে পরিবহনের কর্মকাণ্ড। এতে প্রতিরাতে লাখ লাখ টাকা মূল্যের পাথর-বালু পাচার হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে গারো পাহাড় থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনের কারণে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদী-ঝরনার স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অবাধে পাথর ও বালু উত্তোলন চললেও তা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছে না প্রশাসন। তবে উপজেলা প্রশাসন এর আগে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালুবাহী যানবাহন আটক, জরিমানা এবং জড়িতদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে। প্রশাসনের এসব অভিযানের পরও পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।