1. admin@bartamannews.com : admin :
  2. news1@gmail.com : News 1 : News 1
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-শি বৈঠক, বাণিজ্য ও এআইসহ নানা বিষয়ে আলোচনা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অটুট সমর্থন পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর আইন অঙ্গনে নেমে এলো শোকের ছায়া, অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম স্বপনের ইন্তেকাল রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল, আদালতে নেওয়া হচ্ছে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহর মায়ের কুলখানিতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ জাতিসংঘে আজ রাতে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শান্তি প্রক্রিয়া—সব পর্যায়ে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিতের তাগিদ নারায়ণগঞ্জ শহরে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সাদ্দাম-সবুজের নেতৃত্বে রাজপথে আইন ছাত্র ফোরাম, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে লিপি খন্দকারের নেতৃত্বে মহিলা নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ

শেরপুরের শ্রীবরদীতে সরকারি কোয়ার্টারে ইউএনওর গাড়িচালকের গোয়ালঘর!

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৭ বার পঠিত

মোঃ বিল্লাল হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
সরকারি আবাসিক ভবনের দেয়াল ঘেঁষে গোয়ালঘর। চারপাশে স্তূপ করে রাখা গোবর, খড় ও গরুর উচ্ছিষ্ট। দুর্গন্ধে টেকা দায়, মাছি-মশার উৎপাত আর নোংরা পরিবেশে অতিষ্ঠ সরকারি কোয়ার্টারের বাসিন্দারা।
অভিযোগ উঠেছে, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদের সরকারি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই গরু পালন করে আসছেন উপজেলা পরিষদের ড্রাইভার এবং বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র ও কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি আবাসিক এলাকার জায়গা ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে এই গোয়ালঘর। শুধু তাই নয়, ‘চামেলী’ ভবনের ওপরতলার একটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন রফিকুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, ভবনের নিচতলার একটি কক্ষও ব্যবহার করা হচ্ছে গরুর খড় ও দানাদার খাবার রাখার জন্য। এমনকি কক্ষটির দরজা ভেঙে ফেলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ‘শাপলা’, ‘শালুক’ ও ‘চামেলী’ নামে তিনটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে ‘শাপলা’ ভবনটি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য এবং ‘শালুক’ ও ‘চামেলী’ ভবন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি আবাসিক এলাকার পরিবেশ ও নিয়ম-শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে গোয়ালঘর স্থাপন করায় দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উৎপাত ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “দিন-রাত গোবরের গন্ধে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। জানালা খুললেই দুর্গন্ধ আসে। সরকারি কোয়ার্টারে এমন পরিস্থিতি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলছে, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।”
এদিকে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদে ‘সুইপার’ পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। চাকরি না পাওয়া এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে মুক্তা হরিজন নামে এক বিধবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।
অভিযোগের পর ইউএনওর সিএ ইনসান আলীসহ অপর এক কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি করা হলেও অজ্ঞাত কারণে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
তবে মুক্তা হরিজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম। গোয়ালঘর স্থাপন ও সরকারি আবাসিক এলাকায় গরু পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইউএনওর অনুমতি নিয়েই গরু পালন করছি।”
সরকারি কোয়ার্টারে গোয়ালঘর স্থাপন, গরু পালন এবং সরকারি জায়গা ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমি জানি। তবে সরকারি কোয়ার্টারে গরু পালনের কোনো বিধান নেই।”
অন্যদিকে সরকারি কোয়ার্টারে গরু পালনের বৈধতা এবং মুক্তা হরিজনের কাছ থেকে চাকরির প্রলোভনে টাকা নেওয়ার অভিযোগে অন্য কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে কোনো কর্মচারীর সরকারি কোয়ার্টারে গরু পালনের সরকারি কোনো বিধান নেই। তবে মুক্তা হরিজনের অভিযোগের বিষয়টি প্রমাণিত হলে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি আবাসিক এলাকায় গরু পালনের অনুমোদন না থাকলেও কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গোয়ালঘর পরিচালিত হচ্ছে, সরকারি জায়গা ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছেন এবং চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগের তদন্তে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এসব প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সরকারি কোয়ার্টারের বাসিন্দা ও স্থানীয়দের মধ্যে।
তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি আবাসিক এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পরিবেশ দূষণ বন্ধ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বর্তমান নিউজ
Theme Customized By Shakil IT Park