
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:সবুজ মিয়া।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নিষ্কাশন খাল পুনঃখননের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে নেওয়া কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
পুনঃখননের আওতায় থাকা খাল তিনটি হলো—প্রধান নিষ্কাশন খাল, কেন্দুয়া খাল এবং এনএনডিটি প্রধান নিষ্কাশন খাল। দীর্ঘদিন ধরে এসব খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, খাল তিনটির পুনঃখনন দ্রুত বাস্তবায়নে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করতে হবে।
জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে ১০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আধা সরকারি পত্র পাঠিয়ে রূপগঞ্জের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রূপগঞ্জে শিল্পকারখানা, আবাসিক এলাকা ও জনবসতি দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে খাল দখল, ভরাট ও নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভারী বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। খাল তিনটি যথাযথভাবে পুনঃখনন ও পানি প্রবাহের উপযোগী করা হলে রূপগঞ্জের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের দিকেই নজর রয়েছে রূপগঞ্জবাসীর।