
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ শহরের জিমখানা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় মা-বোনদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা হাসান।
তিনি বলেন, “মা-বোনেরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় জিমখানায় মাদকবিরোধী আন্দোলন সফল হয়েছে।” মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
জিমখানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগ ও সামাজিক প্রতিরোধের প্রসঙ্গে বিভা হাসানের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়েও এলাকাটিতে মাদকবিরোধী প্রতিবাদ, সমাবেশ ও সামাজিক প্রতিরোধের উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিভা হাসান বলেন, মাদকের কারণে শুধু একজন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হন না; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মা-বোনেরা যখন নিজেদের সন্তান ও পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, তখন সেই আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। জিমখানায় স্থানীয় নারীদের এমন ভূমিকা মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে চলতি আগস্টে নারায়ণগঞ্জের একটি মাদক ও ছিনতাইবিরোধী প্রস্তুতিমূলক সভায়ও বিভা হাসান জিমখানাকে নিয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি জিমখানায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম, স্থানীয় তরুণদের ভূমিকা এবং এলাকাটিকে নজরদারির আওতায় আনার বিষয় তুলে ধরেন।
এদিকে, জিমখানা ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জিমখানা এলাকায় মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানের তথ্যও উঠে এসেছে।
বক্তারা মনে করেন, মাদক নির্মূলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুত্ব ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন থাকার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সম্মিলিত অবস্থান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিভা হাসান বলেন, জিমখানাকে মাদকমুক্ত রাখতে যে সামাজিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাদকমুক্ত জিমখানা গড়তে স্থানীয় বাসিন্দা, নারী সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।