
নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
নবনিযুক্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন, উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক সীমা রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও নৌবাহিনীর অবদান প্রশংসনীয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ বাহিনীতে পরিণত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নৌবাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান তাঁর পেশাদার দক্ষতা, নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবেন এবং দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
জবাবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের সংবিধান ও জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও কার্যকর বাহিনীতে পরিণত করতে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
সাক্ষাৎকালে সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ, ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগানো, উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও মতবিনিময় হয়। এছাড়া নৌবাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর সকল সদস্যের প্রতি দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জনগণের আস্থা অটুট রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে বাংলাদেশ নৌবাহিনী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে—এটাই জাতির প্রত্যাশা।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সৌজন্য সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।