
নিজস্ব প্রতিবেদক।বর্তমান নিউজ
রেলের টিকিট নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। রেলের দুর্নীতি ও টিকিটসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফেনী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেসের প্রথম দিনের যাত্রায় ট্রেনে করে ঢাকা থেকে ফেনী আসেন তিনি।
হাবিবুর রশিদ বলেন, রেলের যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও টিকিটসংক্রান্ত অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে অনলাইনে টিকিট বিক্রি হওয়ায় এ ব্যবস্থার আওতায় টিকিট নিয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জনগণের দোরগোড়ায় রেলের সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্য
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চান। রেলের উন্নয়ন ও সেবার মান যেন দিন দিন বৃদ্ধি পায়, সে লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, ফেনী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার এলাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর মামার বাড়ি। প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের উন্নয়নের পাশাপাশি ফেনীবাসীর উন্নয়নেও সচেষ্ট রয়েছেন।
মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি ও আসন বরাদ্দ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ট্রেনটি চালুর পরিকল্পনার সময় ফেনীর সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু প্রথমেই ফেনীতে যাত্রাবিরতি এবং এলাকার জন্য সর্বোচ্চ আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সেই দাবি পূরণ করেছেন বলে জানান তিনি।
হাবিবুর রশিদ বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, রফিকুল আলম মজনু ফেনীবাসীর সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছেন। রেলওয়ের যেকোনো উন্নয়নে ফেনীবাসীরও দাবি থাকবে।
লোকোমোটিভ ও গ্যারেজ বাড়ানোর উদ্যোগ
রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে লোকোমোটিভ ও গ্যারেজের স্বল্পতা ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মিটারগেজ ও লোকোমোটিভের স্বল্পতা কাটিয়ে ওঠার অগ্রগতি হয়েছে। এসব সুবিধা আরও বাড়াতে সরকার ও মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
ফেনীবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, রেলসেবা সম্প্রসারণের যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে। যাত্রীরা যত বেশি টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করবেন এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে যাতায়াত করবেন, তত বেশি এ এলাকায় রেলের গ্যারেজ ও আসনসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। জনগণের দাবি পূরণে সরকার সচেষ্ট থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে রাত ১টা ৫৫ মিনিটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। যাত্রা শুরুর আগে প্রতিমন্ত্রী ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন। এ সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।