
নিজস্ব প্রতিবেদক।বর্তমান নিউজ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে পাহাড় কেটে ইট তৈরির অভিযোগ উঠেছে ‘মীর ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত ভেকু দিয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশ কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই মাটি দিয়ে ইট তৈরির পাশাপাশি বাইরেও বিক্রি করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ের বড় একটি অংশ কেটে সমতল করা হচ্ছে। পাহাড়ের মাটি দিয়ে ইট তৈরির পাশাপাশি তা বাইরে বিক্রি করায় পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ধসে আশপাশের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।
নজরুল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, চোখের সামনে নির্বিচারে পাহাড় কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে। পাহাড়ের মাটিও বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। পাহাড় কেটে সমতল করে ফেলা হলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। বৃষ্টি হলে পাহাড়ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন বলেন, শীত মৌসুম এলেই পাহাড় কাটা বেড়ে যায়। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাব এবং যথাযথ আইনগত পদক্ষেপের ঘাটতির কারণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। ফলে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মানুষের কাছে পাহাড় কাটা সহজ হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
পাহাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, পাহাড় কাটার খবর পাওয়ার পর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় মীর ব্রিকসকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী বলেন, মীর ব্রিকসের পাহাড় কাটার বিষয়ে তারা খবর পেয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পাহাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে মীর ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি