
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের পূর্ব সেনপাড়া এলাকায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা ও পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের সুরুলবাগ এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রানু আক্তার ও তাঁর বোন জহুরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, কাঁচপুরের পূর্ব সেনপাড়া এলাকার সেনপাড়া মৌজায় তাঁদের বাবা আব্দুর রবের মালিকানাধীন ৮১ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ জমি ও বাড়ি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে তাঁরা ওই সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে দাবি করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সালাউদ্দিন ওরফে সালু, ইসহাক ভূঁইয়া, মফিজুর ওরফে গাউঙ্গা, রাজন ভূঁইয়া, নুরুল হক ও নয়ন ভূঁইয়াসহ কয়েকজন বিএনপির নাম ব্যবহার করে তাঁদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন। একই সঙ্গে পৈতৃক জমি ও বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
রানু আক্তারের অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে হট্টগোল করেন এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। পরদিন ১৭ অক্টোবরও তাঁরা বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করেন। এ সময় বাড়িতে থাকতে হলে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে এবং টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, জহুরা অভিযোগ করেন, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে চার বছর বয়সী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সুরুলবাগ থেকে পৈতৃক বাড়িতে যাওয়ার পথে শিমরাইল মাছবাজার সড়কে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁকে মারধর করে একটি রেডমি নোট ১৩ মডেলের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি সুইচ গিয়ার দিয়ে আঘাতের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জমি ও বাড়ি দখল এবং চাঁদা দাবির মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।