
নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
নারায়ণগঞ্জে ১৯১৭ সালের একটি দলিল এবং মুঘল আমলের তিনটি খতিয়ানের কথা উল্লেখ করে পারিবারিক জমির মালিকানা দাবি করেছেন কিং আব্দুর রহমান বাহাদুর শা। জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ ও তা উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের পারিবারিক জমির ইতিহাস, মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ এবং জমি উদ্ধারের বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কিং আব্দুর রহমান বাহাদুর শা দাবি করেন, জাতীয় জমির ৫৪৬৩-এ নম্বরের একটি জমির দলিল ১৯১৭ সালে সম্পাদিত হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জমিটির মালিকানা নিয়ে ১৯৪২ সাল থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি খালি পড়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, জমিটির মালিকানার পক্ষে তাঁদের কাছে তিনটি খতিয়ানসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করা হলে জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে জমির দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য ভূমি রেকর্ড পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
কিং আব্দুর রহমান বাহাদুর শা নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জমিটির মালিকানা-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন অনুসরণ করে জমিটি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিল ও সরকারি ভূমি রেকর্ডের যথাযথ যাচাই প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটতে পারে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
নথি যাচাইয়ের পরই নির্ধারিত হবে মালিকানা
১৯১৭ সালের দলিল ও তিনটি খতিয়ান থাকার যে দাবি সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা, প্রাসঙ্গিকতা এবং সংশ্লিষ্ট জমির সঙ্গে আইনগত সম্পর্ক যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে জমির দাগ, খতিয়ান, মৌজা, মালিকানার ধারাবাহিকতা, উত্তরাধিকার এবং বর্তমান সরকারি ভূমি রেকর্ড পরীক্ষা করে বিষয়টি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, কোনো খতিয়ান বা পুরোনো দলিলের উল্লেখ থাকলেই জমির বর্তমান মালিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চূড়ান্ত প্রমাণিত হয় না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে।