
নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় নবাব সলিমুল্লাহ রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের মালিকানাধীন হোসিয়ারি কমিউনিটি সেন্টারের অফিস কক্ষ জোরপূর্বক দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, দখলমুক্ত করে অফিস কক্ষটি সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ভবনটির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বদিউজ্জামান বদু স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকার ৩১ নম্বর নবাব সলিমুল্লাহ রোডে, আইন কলেজ সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত হোসিয়ারি কমিউনিটি সেন্টার ভবনটি বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের মালিকানাধীন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি ভবনটি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যবহার করে আসছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ীর কাছে ভবনটি বৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনার জন্য। সেখানে জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।
তবে সম্প্রতি ভবনের অফিস কক্ষটি জোরপূর্বক দখল করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশন। এতে ভবনটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের কাছে করা আবেদনে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অফিস কক্ষটি দখলমুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনটিতে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং সামাজিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।