
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ নগরীর বৃহত্তর খানপুর এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় মুরব্বি, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, খানপুর ব্রাঞ্চ রোড, খানপুর মেইন রোড, খানপুর সরদারপাড়া, নগর খানপুর, খানপুর রেললাইন ও জোড়া ট্যাংকিসহ আশপাশের এলাকাগুলোকে আলাদা আলাদা হিসেবে না দেখে বৃহত্তর খানপুরকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ জন্য এলাকার সব মুরব্বি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে মাদকবিরোধী একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ফলে এখন শুধু ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবাদ না করে সম্মিলিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তাদের মতে, বৃহত্তর খানপুরের প্রতিটি মহল্লা থেকে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হলে মাদকসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মাদকসেবীদের পুনর্বাসন, তরুণদের সচেতন করা এবং মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে নিয়মিত সামাজিক প্রচারণা চালানো যেতে পারে।
নারায়ণগঞ্জে এর আগেও মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে খানপুর সরদারপাড়া এলাকা থেকে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নয়; বরং সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। পাশাপাশি মাদকসেবীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “খানপুর ব্রাঞ্চ রোড, মেইন রোড, সরদারপাড়া, নগর খানপুর, রেললাইন ও জোড়া ট্যাংকি—এভাবে আলাদা আলাদা না থেকে সবার আগে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বৃহত্তর খানপুরের সব মুরব্বিকে নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে হবে।”
তারা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে এখন আর শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। তবে যেকোনো পদক্ষেপ হতে হবে আইনসম্মত ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে।
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, বৃহত্তর খানপুরের প্রতিটি মহল্লার মানুষ একযোগে এগিয়ে এলে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকাটিকে মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ আরও ফলপ্রসূ হবে।
মাদকমুক্ত খানপুর গড়তে স্থানীয় ঐক্য, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার সমন্বয়ই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।