1. admin@bartamannews.com : admin :
  2. news1@gmail.com : News 1 : News 1
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আড়াইহাজারে ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফের বাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে, এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনল ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট গাজীপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট গাউছিয়ার তাঁত বাজারে মাংস বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় ক্রেতাকে ঘিরে ধরার দাবি মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে নিলেন খোঁজখবর হাসপাতালের কক্ষে ধূমপান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত চিকিৎসক ইনানীর রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল ১০ জনের; শনাক্ত ৬ দুর্গাপূজার ছুটিতেও ২০–২২ অক্টোবর সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি চালুর নির্দেশ এনবিআরের বগুড়ায় লোটো শোরুম ম্যানেজার পিন্টু হত্যা মামলা: প্রধান পলাতক আসামি সাহস গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না: ডিসি জাহিদ

নাকের ডগায় অপরাধের চাষাবাদ! লাশের ডাম্পিং ও মাদকের স্বর্গরাজ্য! ফতুল্লা স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বারে কলঙ্কিত নরককুণ্ড! ​সেলিম আহমেদ

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ১৩৪ বার পঠিত

​বর্তমান নিউজ ডেস্ক :
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড দিয়ে যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন, ফতুল্লা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনের অংশটি তাদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, ভিআইপি, সিআইপি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সাধারণ যাত্রী এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন- অথচ স্টেডিয়ামের সম্মুখবর্তী এই স্পটটি আজ একটি জীবন্ত নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এই পরিত্যক্ত অংশে দীর্ঘদিন যাবৎ রাতের আঁধারে ময়লা-আবর্জনা ও মরা পশুপাখি ফেলা হচ্ছে, যা পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।
​আরও ভয়াবহ তথ্য হলো- এই নির্জনতার সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্র এখানে আস্ত মানুষের লাশ ডাম্পিং করছে। মরা গরু, কুকুর, বিড়াল পচে-গলে থাকে শত শত ইঁদুরের আনাগোনা। অতি সম্প্রতি এই স্পটটি থেকে মার্ডারকৃত লাশ, বস্তা বস্তা পরিত্যক্ত জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। এমনকি কিছুদিন আগে উক্ত স্থান থেকেই একসঙ্গে দুটি অর্ধগলিত মরা গরু সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা মাটিচাপা দিয়ে সাময়িকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করলেও, কোনো এক রহস্যময় কারণে এই সংকটের স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। সন্ধ্যা নামলেই যেখানে সুস্থ মানুষের হাঁটার উপায় থাকে না, সেখানে ঝোপঝাড়ে অসামাজিক কার্যকলাপসহ বসে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের अभयारण्य বা স্বর্গরাজ্য।
​সবচেয়ে বড় কৌতুক এবং দেশের ইতিহাসের অন্যতম নির্মম পরিহাস হলো- এই কলঙ্কিত স্পটটি থেকে মাত্র ২০০ গজের মধ্যে সগৌরবে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই কার্যালয়সহ প্রায় ৬ থেকে ৭টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের জেলা ও আঞ্চলিক কার্যালয়। এই বিশাল আমলাতান্ত্রিক বহরের শত শত কর্মকর্তা-রাজনীতিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা প্রতিদিন সুশীতল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সরকারি গাড়িতে চড়ে এই নরককুণ্ডের ওপর দিয়েই রাজকীয় ভঙ্গিতে অফিসে যাতায়াত করেন। তাদের চোখের সামনে, নাকের ডগায় বছরের পর বছর ধরে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে, মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠছে, অথচ তাদের চোখ যেন সম্পূর্ণ বন্ধক দেওয়া! এই আমলাতান্ত্রিক অন্ধত্ব এবং উদাসীনতা শুধু দুঃখজনকই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবমাননা এবং চরম লজ্জাজনক। এতগুলো সরকারি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী দপ্তরের এই যৌথ ও নির্লজ্জ নীরবতা কি অপরাধী চক্রকে পরোক্ষ লাইসেন্স বা অভয়ারণ্য উপহার দেওয়ার শামিল নয়?
​এখানেই আমলাতন্ত্রের চিরচেনা সেই ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ এবং উদাসীনতা সামনে চলে আসে। যখনই এই স্থানটির স্থায়ী সমাধান বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা ওঠে, তখনই ‘জায়গাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের- এই ওজর দেখিয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দায় এড়ানোর চেষ্টা করে। আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নীতিনির্ধারকদের জিজ্ঞেস করতে চাই- আইন মানুষের জন্য, নাকি মানুষ আইনের জন্য? যে জায়গাটি আজ আইনি জটিলতা আর আমলাতান্ত্রিক ফাইলের দোহাই দিয়ে খালি ও নির্জন ফেলে রাখা হচ্ছে, সেই জায়গাতেই তো প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা, লাশ পড়ছে, মাদক কেনাবেচা হচ্ছে! অপরাধীদের জন্য যদি সড়ক ও জনপথের এই জায়গা ‘উন্মুক্ত’ এবং ‘নিরাপদ’ থাকতে পারে, তবে জননিরাপত্তায় ও জনকল্যাণে কেন এই স্থানটির স্থায়ী ভোলবদল করা সম্ভব নয়?
​অপরাধীরা সবসময় অন্ধকার এবং নির্জনতা খোঁজে। এই স্থানটিকে যদি দ্রুত বর্জ্যমুক্ত করে স্থায়ীভাবে লাইটিংয়ের আওতায় আনা যায় এবং একটি সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল নজরদারিতে রূপান্তর করা যায়, তবে অপরাধীরা পাততাড়ি গুটিয়ে পালাতে বাধ্য। অনেক সময় মহাসড়কের পাশে যানজটের খোঁড়া অজুহাত তোলা হয়। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো- এই স্পটের ঠিক উল্টো পাশে (রাস্তার পূর্ব পার্শ্বে) স্টেডিয়ামের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য কয়েকশত গাড়ি রাখার মতো একটি বিশাল অফিশিয়াল স্ট্যান্ড খালি পড়ে থাকে। ফলে এই স্পটটিকে কেন্দ্র করে কোনো জনহিতকর উদ্যোগ নিলে বা সৌন্দর্যবর্ধন করলে সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক প্ল্যানের মাধ্যমে লিংক রোডের মূল লেন সম্পূর্ণ সচল ও যানজটমুক্ত রাখা শতভাগ সম্ভব।
​একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যা দেশের সম্মান বহন করে, তার প্রবেশদ্বারে এভাবে বছরের পর বছর ধরে অপরাধের চাষ হতে দেওয়া কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। সওজ কিংবা জেলা প্রশাসন যদি আইনি জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে এই নরককুণ্ডকে এভাবে ফেলে রাখে, তবে প্রকারান্তরে এটিই প্রমাণিত হবে যে- প্রশাসন এই স্পটটিকে অপরাধী ও লাশ ফেলার সিন্ডিকেটের হাতেই জিম্মি রাখতে চায়।
​ফতুল্লার প্রবেশদ্বারকে আমরা অপরাধের অন্ধকারে তলিয়ে যেতে দেবো, নাকি প্রশাসনের টনক নড়িয়ে একে আলোয় আলোকিত করবো- সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই। আশা করি, মাননীয় জেলা প্রশাসক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমলাতান্ত্রিক অন্ধত্ব ঘুচিয়ে, এই স্পটটির স্থায়ী প্রতিকার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ফতুল্লাবাসী আর কোনো তালিজোড়া আশ্বাস বা সাময়িক অজুহাত দেখতে চায় না, তারা এই নরককুণ্ড থেকে স্থায়ী মুক্তি চায়।

​লেখক: রাজনৈতিক ও মিডিয়া কর্মী।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বর্তমান নিউজ
Theme Customized By Shakil IT Park