
নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
যুবসমাজকে দেশের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন আনলেই দেশ এগিয়ে যাবে না; যুবকদের উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত করে দেশ গঠনেও ভূমিকা রাখতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখন দেশ নির্মাণের কাজে মনোযোগ দিতে হবে। অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন
জাতীয় সংসদ ভবন দেখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৭ সালে প্রথম যুব কনভেনশন আয়োজনের কথা স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। তাঁর ভাষ্য, এর পর যুব মন্ত্রণালয়, যুব অধিদপ্তর ও যুব কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। ক্রিসেন্ট পার্কের পাশে জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধির কথা উল্লেখ করে তিনি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। খালেদা জিয়া যুবকদের প্রশিক্ষণের জন্য জেলায় জেলায় কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন বলেও তিনি স্মরণ করেন।
দেশের জনসংখ্যায় যুবকদের বড় অংশগ্রহণকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ সাফল্য অর্জন করবে। যুবসমাজকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুব দিবসের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তরুণ উদ্যোক্তারা অল্প পুঁজি নিয়ে পণ্য তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করছেন। একজন নারী উদ্যোক্তার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নিজের আয় দিয়ে তিনি পরিবারকে সহায়তা করার পাশাপাশি মেয়েকে বিদেশে পড়তে পাঠিয়েছেন।
নিজের এলাকার বেকারত্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণদের অনেকেই চাকরির জন্য তাঁর কাছে আসেন। এমনকি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদেও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের কাজ করতে দেখা যায়। যুব অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা গেলে বেকারত্ব কমিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক পুঁজি দিয়ে সহায়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বড় কোম্পানিকে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্যও অর্থায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে তাঁরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন।
শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানের উপযোগী করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও আয় বাড়ানো সম্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন পার্লামেন্টকেন্দ্রিক রাজনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তিনি যুবকদের দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
যুবকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ লড়াই ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে। সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে দেশকে সামনে নিতে হবে।