
নিজস্ব প্রতিবেদক | বর্তমান নিউজ
ভোলার লালমোহনে রাস্তার পাশের সরকারি প্রায় ৪০০টি গাছ অনুমতি ছাড়া কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর তাঁকে দলীয় সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করেছে ভোলা জেলা যুবদল। গাছ কাটার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জেলা যুবদলের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদের সেলিম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট এবং দলের নীতি-আদর্শ ও সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জসিম উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না জানিয়ে নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক বেলালকে। লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ সদস্যসচিব এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহে উপজেলার কর্তারহাট বাজার থেকে পূর্ব দিকে রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের পাশে থাকা মেহগনি, রেইনট্রি ও চাম্বলগাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, কোনো অনুমতি বা দরপত্র ছাড়াই এসব গাছ কাটা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুর দিকে রাস্তা সংস্কারের কথা বলে প্রথমে ১০ থেকে ১৫টি গাছ কাটা হয়। এরপর গত সপ্তাহে এক্সকাভেটর দিয়ে দিন-রাতে প্রায় ৪০০ গাছ কাটা হয়েছে। কাটা গাছগুলো রায়চাঁদ বাজারে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিনের করাতকল ও আশপাশে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
গত বুধবার লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এলজিইডির প্রকৌশলী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা প্রকৌশলী মাহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য দরপত্র দেওয়া হলেও পাশের গাছ কাটার কোনো অনুমতি বা দরপত্র দেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদিক জানান, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জেলায় অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে, থানাকেও জানানো হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসিম উদ্দিন। তাঁর দাবি, গাছগুলো কে বা কারা কেটেছে, তা তিনি জানেন না। রমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।