
বর্তমান নিউজ ডেস্ক।
গার্মেন্টস খাতের কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামকে ঘিরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের একজন নেতা হিসেবে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও আত্মগোপনে থেকে সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রাপ্ত চাকরির নথি অনুযায়ী, মঞ্জুরুল ইসলাম ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে HANDZ CLOTHING BD LTD-এ কর্মরত। নথিতে তাঁর পদ General Manager, Marketing & Merchandising হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এর আগে তিনি AMH Apparels Ltd, Silver Clothing Ltd এবং Hanif Spinning Mills Ltd-এ কাজ করেছেন।
সূত্রের দাবি, HANDZ CLOTHING BD LTD-এর মালিকের সঙ্গে মঞ্জুরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্ক ছিল এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রতিষ্ঠানটির মালিক আত্মগোপনে যাওয়ার পর মঞ্জুরুল ইসলামের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে মঞ্জুরুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জের ভোলাইল ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছেন এবং চাকরির পরিচয়ের আড়ালে কোনো গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে পারেন। তবে তাঁর বর্তমান কর্মস্থল এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গুলশানের কর্মসূচিতে ভূমিকার অভিযোগ
সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজধানীর গুলশান এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিল ও কর্মসূচি সংগঠনে মঞ্জুরুল ইসলামের ভূমিকা ছিল।
এমনকি কয়েকটি কর্মসূচিতে তিনি সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিদেশি সংস্থাকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ
মঞ্জুরুল ইসলাম একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য সরবরাহ করতেন—এমন একটি গুরুতর দাবিও সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফলে বিষয়টি নিশ্চিত করতে যোগাযোগের নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করলে সততা প্রমাণ পাবে।
অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দু
মঞ্জুরুল ইসলামের বর্তমান কর্মস্থল, HANDZ CLOTHING BD LTD-এর মালিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর কথিত ভূমিকা এবং গুলশানের কর্মসূচিতে উপস্থিতির বিষয়গুলো এখন অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, জিডি, তদন্ত বা আদালতের নথি রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত রাজনৈতিক ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগগুলো সূত্রনির্ভর; স্বাধীনভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।