আপনার সন্তান কি মেধাবী ও বুদ্ধিমান! বুঝবেন কিভাবে? রইলো এই ৫টি লক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদন: নিজের সন্তান মেধাবী হোক এটা কিন্তু প্রত্যেক বাবা-মাই চেয়ে থাকেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই শিশুর জন্মের পর থেকেই তাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা থাকে যে শিশুকে কিভাবে তারা বড় করবেন সেটা নিয়ে। যদিও ছোটবেলায় এটা কখনোই বোঝা সম্ভব নয় যে শিশুটির মধ্যে কতটা মেধার প্রকাশ ঘটবে বা বড় হয়ে সে কতটা সফল হবে!

তবে শিশুদের মধ্যে কিছু বুদ্ধিমত্তা লক্ষণ দেখে কিন্তু এগুলি ধারণা করা যেতে পারে। আর সেই অনুযায়ী কিন্তু পিতা-মাতাদের সন্তান লালন-পালন করার উচিত যাতে শিশুরা বড় হলে সম্পূর্ণ মেধা আয়ত্ত করতে পারে। আপনার শিশুর মধ্যে কোন প্রতিভা আছে কিনা তা আপনারা কতগুলি প্রাথমিক লক্ষণ দেখলেই বুঝতে পারবেন। যদি এই লক্ষণগুলো আপনাদের অত্যন্ত দৃঢ় মনে হয় সেক্ষেত্রে কিন্তু অবশ্যই শিশুদের উৎসাহিত আর অনুপ্রাণিত করবেন যাতে তারা নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে।

নিচে এমন কয়েকটি লক্ষণ উল্লেখ করা হলো যা একজন বুদ্ধিমান শিশুর থাকতে পারে—

১) শিশুদের মনোযোগের ধরন:

আমরা সকলেই জানি যে সাধারনভাবে শিশুদের মনোযোগ একটি গোল্ডফিশের মতন হয়ে থাকে। যেকোনো আকর্ষণীয় কাজ শুরু করতে কিন্তু তারা 10 মিনিট সময় নেয়। এবং যদি একবার মন বসে যায় তাহলে কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তারা সেই নির্দিষ্ট কাজটিতে মনোনিবেস করতে পারে।

যদি ছয় মাস বয়সের আগেই আপনারা শিশুদের মধ্যে এই আচরণ লক্ষ্য করেন তাহলে বুঝবেন আপনার শিশু অত্যন্ত বুদ্ধিমান হতে চলেছে। উদাহরণস্বরূপ যদি আপনার শিশু স্বাভাবিকভাবেই ধাঁধা গুলির দিকে বেশি আকর্ষিত থাকে এবং সেগুলি ঠিক করার উপরে বেশি সময় ব্যয় করে থাকে তাহলে তাকে অবশ্যই আপনারা অনুপ্রাণিত করবেন।

২) শিশুরা যেকোনো সমস্যার সমাধানে আগ্রহী হলে:

অনেক শিশুরা কিন্তু বিভিন্ন সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পছন্দ করে। আপনার শিশুটির মধ্যেও এই বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ থাকে তাহলে কিন্তু অবশ্যই তাকে আরও বেশি রকমের অনুপ্রাণিত করবেন। ধরুন আপনার কোন কুকিং জার একটি উঁচু শেলফে রেখে দিন এবং সেখান থেকে শিশুটি ওটা নামানোর জন্য কি কি চতুর উপায় খুঁজে বের করে সেটা অবশ্যই লক্ষ্য করুন। প্রয়োজন হলে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আপনারা তাদেরকে উপলব্ধি করাতে পারেন।

৩) শিশুকে নিজেই নিজের বন্ধু তৈরি করুন:

শিশুরা যাতে কখনোই একাকিত্ব না ভোগে এবং যেকোনো সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে পারে সেটাও কিন্তু একটা বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। তাই কিছুটা সময় এমন রাখুন যখন শিশু নিজের সঙ্গেই সময় কাটাবে। যদিও এরকম খুব একটা হয় না কারণ শিশুরা খুবই সামাজিক হয় এবং বেশিরভাগ সময় কিন্তু সকলের সঙ্গে থাকতে চায়।

তবে যদি আপনি লক্ষ্য করেন যে আপনার শিশু একা একাই খেলছে অথবা যে কোন কাজ করছে তাহলে বুঝবেন আপনার শিশুর মধ্যেও বুদ্ধিমান সত্তা রয়েছে। আপনার বাচ্চা যতক্ষণ নিরাপদ কোম্পানিতে থাকে ততক্ষণ যার সাথে চায় তাদের সাথে যোগাযোগ করার অনুমতি দিন। তবে যদি সে না চায় তাহলে কিন্তু অতিরিক্ত জোর করবেন না।

৪) শিশুদের হাস্যরসের প্রতি জ্ঞান থাকলে:

আপনার শিশুর যদি হাস্যরসের উপর জ্ঞান থাকে তাহলেও কিন্তু বুঝবেন যে তার মধ্যে আলাদা ধরনের কিছু প্রতিভা রয়েছে বা তাদের আইকিউ নির্বিশেষে জীবন তাদের জন্য সহজ হতে চলেছে। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না হাস্যরসের অনুভূতি ও বুদ্ধিমত্তা প্রকাশের সাহায্য করে থাকে।

একজন ব্যক্তির রসিকতা বোঝার এবং বিনিময়ের রসিকতা করার ক্ষমতা বিমূর্ত চিন্তার সাথে জড়িত। তাই কখনো কোন কাজ করে আপনার শিশু যদি আপনাকে হাসানোর চেষ্টা করে তবে কিন্তু একেবারেই মন খারাপ করবেন না।

৫) শিশুদের সতর্কতা ভাব:

আপনার শিশু যদি যেকোনো ব্যাপারে সতর্ক হয়ে থাকে তাহলে সেটাও কিন্তু আপনার শিশুর বুদ্ধিমান হওয়ার একটি প্রাথমিক লক্ষণ। যে সমস্ত শিশুরা বুদ্ধিমান হয়ে থাকে তারা কিন্তু উচ্চমাত্রার সর্তকতা প্রদর্শন করে।তারা সব সময় আশেপাশের পরিবেশ আর প্রিয়জনদের নিয়ে খুবই সচেতন থাকে। পরিবারের সদস্যদের বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের যারা নিয়মিত যোগাযোগে আসে তারা সবসময় চেষ্টা করে তাদেরকে চিনতে এবং বুঝতে।

যদি দেখেন নতুন কারো সাথে যোগাযোগ হওয়ার পর আপনার শিশু চারপাশে নজর রাখছে এবং কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছে তাহলে বুঝবেন তারা কিন্তু সতর্ক হচ্ছে বা কিছু খোঁজার চেষ্টা করছে। তাই সর্বদা পড়াশুনা এবং অন্যান্য কাজের মাঝেই শিশুকে কিন্তু নিজেদের মতন করে খেলা আর অন্বেষণ করার স্বাধীনতা দেবেন। তাহলেই তারা ভালোভাবে বড় হতে পারে এবং তাদের মেধার প্রকাশ ঘটবে

Back to top button