সন্তানকে মেধাবী ও বুদ্ধিমান করে তুলতে চান? জেনে নিন 10 টি দুর্দান্ত উপায়!

নিজস্ব প্রতিবেদন:সন্তান জন্মের পর থেকেই বাবা-মায়েদের চিন্তা থাকে কিভাবে নিজের সন্তানকে সঠিকভাবে লালন পালন করে তুলবেন এবং তার সন্তান মেধাবী হবে।মেধাবী শিক্ষার্থী এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তি হিসেবে সন্তানকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবারকে কিছু নিয়ম পালন করে চলতে হয়। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এমন কিছু উপায় সম্বন্ধে আলোচনা করতে চলেছি যা নিষ্ঠা সহকারে পালন করলে আপনার সন্তান অচিরেই মেধাবী এবং বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে। তাহলে আসুন আর দেরি না করে আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

প্রথমত, আপনার সন্তানকে প্রথম থেকেই বিভিন্ন রুটিন মেনে পরিকল্পনা তৈরি করতে শেখাতে হবে। যদি সে সময়ের কাজ সময়ে করতে পারে তাহলে তা তার জীবনে অত্যন্ত প্রভাব ফেলবে। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন শিশু যেন সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করে।এছাড়াও নিজের জিনিসপত্র নির্দিষ্ট জায়গায় গুছিয়ে রাখার মত বিষয়গুলিতেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত শুধুমাত্র পড়াশোনা নয় তার বাইরেও শিশুদের একটি আলাদা জগত রয়েছে।তাই অবশ্যই শিশুদের টিভি দেখা বা খেলাধুলা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে তৈরি করে রাখুন। এতে কখনোই দৈনন্দিন জীবন থেকে আপনার সন্তান বিমুখ হয়ে পড়বে না।তৃতীয়ত বিশেষ বিশেষ দিন বা অনুষ্ঠান মনে রাখার জন্য শিশুর পড়ার টেবিলের সামনে বা ঘরে একটি ছোট তালিকা তৈরি করে দিন। এতে তার মধ্যে বিভিন্ন ঘটনা সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে এবং সে গুরুত্ব পাবে।

চতুর্থত শিশুদের পড়ায় মনোযোগী হওয়ার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং গোছানো পরিবেশ ভীষণ প্রয়োজন। তাই অবশ্যই তার পড়ার টেবিল বা যে জায়গায় সে পড়তে বসে সেটিকে গোছানো এবং শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। তাহলে কখনই আপনার সন্তানের মনোযোগ নষ্ট হবে না।পাশাপাশি পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকেই তাকে সময় দিন এবং আনন্দ করার মুহূর্ত ভাগ করে নিতে দিন।তবে যতটা সম্ভব অনলাইন গেমস বা স্মার্টফোন থেকে তাকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।

পঞ্চমত মাঝে মাঝেই তার পড়তে বসার স্থান বদলে ফেলার চেষ্টা করুন।চেষ্টা করবেন তার পড়ার ঘরের দেয়ালের রং যেন গাঢ় না হয় এক্ষেত্রে শিশুর সৃজনশীলতা নষ্ট হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনারা হালকা সবুজ বা হলুদ বা সাদা রং ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও পড়ার টেবিলে কখনোই অপ্রয়োজনীয় জিনিস রাখবেন না। এতে শিশুর মনোযোগ নষ্ট হতে পারে।

ষষ্ঠত পড়ার ঘর যতটা সম্ভব আরামদায়ক এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পূর্ণ রাখার চেষ্টা করুন। এটি শিশুর মানসিকতার ওপর প্রভাব ফেলবে।এছাড়াও সুন্দরভাবে বিভিন্ন জিনিস গুছিয়ে রাখার জন্য বুকসেলফ রাখার চেষ্টা করবেন। তবে সেখানে যেন শুধু পড়ার বই না থাকে। পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মজাদার এবং রঙিন গল্পের বই অবশ্যই রাখবেন।এতে একদিকে যেমন শিশু বিভিন্ন গল্প সম্বন্ধে আগ্রহী হবে তেমনি অনেক নতুন জিনিস জানতে পারবে।

সপ্তমত বাবা-মা হিসেবেও আপনাদেরকে নিজের দায়িত্ব বুঝতে হবে। স্কুলে শিশুর পারফরম্যান্স কেমন, সহপাঠীদের সঙ্গে তার ব্যবহার কেমন,শিক্ষকদের সঙ্গে আপনার শিশুর সঠিক যোগাযোগ রয়েছে কিনা বা পড়াশোনার কোন বিষয়ে সে কেমন ব্যবহার করছে প্রতিটি বিষয় একজন অভিভাবক হিসেবে আপনার জ্ঞান থাকা অবশ্যই প্রয়োজন।তাই অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি একজন অভিভাবক তথা বাবা—মা হিসেবে এই জিনিসগুলোর প্রতি অবশ্যই নজর রাখবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button