বাড়িতে অতিরিক্ত টিকটিকির উপদ্রবের হাত থেকে বাঁচতে আজই ট্রাই করুন এই সহজ অব্যর্থ ট্রিকস

নিজস্ব প্রতিবেদন : আপনার বাড়িতে কি দিন প্রতিদিন টিকটিকির উপদ্রব বেড়েই চলেছে? রান্নাঘর থেকে শোওয়ার ঘর সব জায়গাতেই কি আপনারা কালো বা বাদামি রঙের মল পড়ে থাকতে দেখছেন? তাহলে অবশ্যই আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি কিন্তু শুধুমাত্র আপনারই জন্য। টিকটিকি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কীটপতঙ্গ কিন্তু আমাদের বাড়িতে অত্যন্ত উপদ্রব করে থাকে। বাজারচলতি বিভিন্ন জিনিস দিয়ে এদের তাড়ানো যেতে পারে সত্যিই, তবে রান্নাঘরের সমস্ত জায়গায় কিন্তু এসব জিনিস ব্যবহার করা যায় না।

তাই আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা টিকটিকি তাড়ানোর জন্য এমন কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করতে চলেছি যা অত্যন্ত কার্যকরী এবং সহজেই আপনারা করে নিতে পারবেন। টিকটিকি অনেক পোকামাকড় খেয়ে আমাদের বাড়িতে কিন্তু কাজ করে থাকে, তবে ভুল করেও টিকটিকি যদি খাবারের মধ্যে পড়ে যায় বা এর মল যদি খাবারে মিশে যায় তাহলে কিন্তু মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই অবশ্যই কিন্তু আপনাদের এর প্রতিকার প্রয়োজন।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে টিকটিকি তাড়ানোর বিশেষ কয়েকটি উপায়:

১) ডিমের খোসার ব্যবহার:

টিকটিকি তাড়াতে আপনারা কিন্তু ডিমের খোসা ব্যবহার করতে পারেন সহজেই। এটা সবথেকে সস্তা আর কার্যকর উপায় হবে আপনার জন্য। আপনার বাড়িতে এমন কিছু জায়গা যেখান থেকে সাধারণত টিকটিকি প্রবেশ করে থাকে সেখানে ডিমের খোসা রেখে দিন। খোসা কিন্তু পুরো ভাঙ্গার দরকার নেই, অর্ধেক করে রেখে দিলেই হবে।একটা ডিমের দুই টুকরো করে এক জায়গায় এমন ভাবে রাখুন যাতে টিকটিকি তার সাথে ধাক্কা খায়, তাহলে টিকটিকি নিজেই ভয়ে পালিয়ে যাবে।পাঠকদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি টিকটিকি কিন্তু ডিমের খোসাকে ‘শিকারি’ মনে করে থাকে।তাই বাড়িতে এটি রাখলে টিকটিকির উপদ্রব কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক।

২) ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেপার স্প্রে তৈরি:

টিকটিকি তাড়ানোর জন্য কিন্তু এই স্প্রের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এটি যদি আপনারা একবার টিকটিকির গায়ে স্প্রে করে দিতে পারেন তাহলে কিন্তু আর জীবনেও সে আপনার বাড়িতে আসবে না। পেপার স্প্রে তৈরি করার জন্য একটি বোতলের মধ্যে সামান্য পরিমাণে জল আর গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে নিন। তারপর সাধারণত যে সমস্ত জায়গায় টিকটিকির উপদ্রব দেখা যায় সেখানে এই স্প্রে করে দিলেই হবে। গোলমরিচের জায়গায় কিন্তু আপনারা ঝাঁঝালো লাল লঙ্কার গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকরী পদ্ধতি।

৩)ফ্লাইপেপারের ব্যবহার:

টিকটিকি তাড়াতে ফ্লাইপেপার ব্যবহার করুন। টিকটিকি সাধারণত যেসব পোকামাকড় শিকার করে তারা আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাই এই ধরনের জায়গায় টিকটিকি দেখা যায়। যদি ফ্লাইপেপার একটি উজ্জ্বল স্থানের কাছাকাছি রাখেন, তাহলে টিকটিকি সহ পোকামাকড় ধরতে পারেন। রান্নাঘর বা অন্যান্য ঘরের লাইটের কাছে আপনারা খুব সহজেই এই ফ্লাই পেপার লাগিয়ে রাখতে পারেন।এটা রাখার কয়েক ঘণ্টা পরেই দেখবেন এতে টিকটিকি আটকে আছে। বাইরের নোংরা ডাস্টবিনে ফেলে দিন পেপার সহ।ব্যস তাহলেই কাজ হয়ে যাবে।

৪) কীটনাশক ট্যাবলেটের ব্যবহার:

টিকটিকি তাড়াতে কিন্তু আপনারা খুব সহজেই কীটনাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করতে পারেন। বাড়ি থেকে টিকটিকির উপদ্রব কমিয়ে আনার জন্য যে সমস্ত জায়গায় টিকটিকি বেশি দেখা যায় এবং গ্যাস, ফ্রিজ এবং সিঙ্কের নীচে কিছু ট্যাবলেট রাখুন। তবে বাড়িতে বাচ্চা বা কুকুর, বিড়াল থাকলে তাদের নাগালের বাইরে রাখবেন। কারণ এগুলি কিন্তু খুবই বিষাক্ত। ট্যাবলেট রাখার কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর অবশ্যই ভালো করে সমস্ত জায়গার লক্ষ্য রাখবেন যদি টিকটিকি এই ট্যাবলেট খেয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু তার মৃত্যু নিশ্চিত।

৫) কফি এবং তামাক সহযোগে তৈরি টিকটিকির বিষ :

টিকটিকি তাড়ানোর জন্য আপনারা কিন্তু স্থানীয় বাজারে নানান ধরনের বিষ বা ওষুধ কিনতে পেয়ে যাবেন। তবে বাড়িতেই কিন্তু এটা সহজে তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। কিছুটা পরিমাণ কফি আর তামাকের গুড়ো নিয়ে একসাথে মিশিয়ে ভালো করে ছোট ছোট বল তৈরি করুন। টুথপিকের ডগায় লাগিয়ে রেখে যে সমস্ত জায়গায় টিকটিকি প্রবেশ করে বা সব থেকে বেশি দেখা যায় সেখানে রেখে দিন। ফলাফল আপনারা হাতেনাতেই দেখতে পারবেন।

৬) রসুনের ব্যবহার:

রসুনের মধ্যে একটা তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ রয়েছে। এই গন্ধ কিন্তু টিকটিকি সহ অনেক পোকামাকড় একেবারে সহ্য করতে পারে না। যে সমস্ত জায়গা দিয়ে টিকটিকি আসা-যাওয়া করে বা বাড়িতে প্রবেশ করে থাকে সেখানে আপনারা রসুনের কোয়া ছড়িয়ে রেখে দিতে পারেন। দেখবেন টিকটিকির উপদ্রব থেকে কিন্তু আপনারা অনেকাংশেই রেহাই পেয়ে যাবেন।

৭) পেঁয়াজের স্লাইস ব্যবহার:

পেঁয়াজ এমন একটি জিনিস যা থেকে টিকটিকি পালিয়ে যায়। পেঁয়াজকে দুই টুকরো করে কেটে টিকটিকি লুকানোর জায়গায় রাখুন বা টিকটিকির পথে রাখুন। দেখবেন বেটা আর আপনার বাড়ি ভুলেও আসবে না।

৮) ন্যাপথলিনের ব্যবহার:

উপরিউক্ত জিনিসগুলি ছাড়াও আপনারা কিন্তু টিকটিকি তাড়ানোর জন্য নাপথালিন ব্যবহার করতে পারেন। ন্যাপথালিনের উগ্র গন্ধ কিন্তু মানুষ অনেক সময় সহ্য করতে পারে না সেই জায়গায় টিকটিকি তো অনেক দূর। টিকটিকি যাওয়া আসার পথে বা প্রবেশপথে যদি আপনারা খবরের কাগজে ন্যাপথালিন মুড়ে রেখে দিতে পারেন তাহলেই কিন্তু এর উপদ্রব অনেকটা কমে যাবে।

বাড়ি থেকে টিকটিকি দূরে রাখার উপায়:

১) সাধারণত নোংরা বা অপরিষ্কার জায়গায় কিন্তু টিকটিকির উপদ্রব সব থেকে বেশি হয়ে থাকে। তাই বাড়িতে যাতে এই পরিস্থিতি না থাকে সেই বিষয়ে আপনাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।ঘরের কোনা থেকে শুরু করে মেঝে সব জায়গা কিন্তু আপনারা অতি অবশ্যই নিয়মিত পরিষ্কার করবেন।

২) দেওয়াল থেকে সবসময় আসবাবপত্র ছয় ইঞ্চি দূরে রাখার চেষ্টা করবেন।কারণ টিকটিকি রাতে সক্রিয় থাকে এবং দিনের বেলা অন্ধকার এবং উষ্ণ জায়গায় লুকিয়ে থাকে। তারা বেছে নেয় দেওয়ালে টাঙানো ছবির ফ্রেম অথবা আসবাবপত্রের পেছনের অংশ। সুতরাং যতটা সম্ভব আসবাবপত্র দূরে রাখার পাশাপাশি দেওয়ালে ছবি কম লাগিয়ে রাখবেন।

৩)যদি বাড়িতে ফুটো পাইপ থাকে, তাহলে তা অবিলম্বে ঠিক করুন, কারণ টিকটিকি আর্দ্র পরিবেশ পছন্দ করে। বাড়িতে যদি বাগান বা অন্যান্য কোন জায়গা থাকে তাহলে কিন্তু সেটা অতি অবশ্যই পরিষ্কার রাখবেন। পাশাপাশি বাড়ির তাপমাত্রা যতটা সম্ভব কম রাখুন, কারণ বাইরে ঠান্ডা হলে রাতে টিকটিকি আপনার বাড়িতে ঢুকে পড়ে।

Back to top button