জিনিসপত্র ছুঁড়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল মাঝরাস্তায়! সেখান থেকে আজ বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মীরের জীবনযুদ্ধের গল্প শুনলে থামবে না চোখের জল

নিজস্ব প্রতিবেদন: একটা সময় রেডিও মিরচির শ্রোতাদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন মীর। তবে সম্প্রতি কিছুদিন আগেই মিরচি ছেড়ে দেন মিরাক্কেল খ্যাত এই ব্যক্তিত্ব। বহু মানুষ সেই সময় ছিলেন যারা হয়তো সকালবেলায় উঠে মীরের কন্ঠ না শুনলে নিজের দিন শুরু করতেই পারতেন না। দৈনন্দিন ব্যস্ততম জীবনের শুরুতেই এটা যেন তাদের কাছে একটা নতুন সকাল শুরুর আভাস ছিল। মীরের কন্ঠে সানডে সাসপেন্স এর বিভিন্ন এপিসোড এখনও কিন্তু জনপ্রিয়তার শীর্ষস্থানে রয়েছে বলা যায়। তিনি রেডিও মিরচি ছেড়ে দেওয়ার পরেও তার কন্ঠে পুরনো সানডে সাসপেন্স এর গল্পগুলি শুনে থাকেন অনেক শ্রোতারা।

সানডে সাসপেন্স এর বিভিন্ন গল্পে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র কে সহজেই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন তিনি। শার্লক হোমস থেকে শুরু করে ব্যোমকেশ বক্সী সমস্ত চরিত্রই যেন মানুষের কাছে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল মীরের কণ্ঠে। বর্তমানে জনপ্রিয় এই ব্যক্তির একটা সময়ের জীবনের গল্প শুনলে কিন্তু রীতিমতন অবাক হয়ে যাবেন আপনারা। আসলে জনপ্রিয়তার শীর্ষস্থানে থাকা আমরা সেই ব্যক্তিটার পরিচয় শুধুমাত্র জানি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিন্তু তার জীবনের লড়াইটা আমাদের কাছে অজানাই থেকে যায়।

রিপন স্ট্রিটের পাশে একটি অ্যাংলো ইন্ডিয়ান পরিবারের বাড়ির সিঁড়ির নিচে যে এক কামরা ঘর হয় সেখানেই সপরিবারে থাকতেন মীর আফসর আলি। জানা যায় সেই অ্যাংলো ইন্ডিয়ান পরিবারের কাছ থেকেই প্রথম ইংরেজি বলা শেখেন তিনি। সেই সময় এক প্রোমোটার এই বাড়িটি ভাঙতে চেয়েছিল। আদালতে মামলা চলাকালীন সেই প্রোমোটার কেস জিতে যাওয়ায় ৩১শে আগস্ট ১৯৮৭ সালে তাদেরকে এক দুপুরে রাতারাতি ঘরছাড়া করে দেওয়া হয়। তখন তার বয়স ছিল ১২। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ছোট্ট মীর দেখেছিলেন তার বাড়ির সমস্ত জিনিসপত্র থেকে শুরু করে খাবার-দাবার,বাসনপত্র সবকিছুই বাইরে গড়াগড়ি খাচ্ছে।

মাথার উপর সেই সময় একটি ছাদের জন্য হাহাকার করে উঠেছিল সেই ছোট্ট শিশুটি। বর্তমানে চূড়ান্ত বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থেকেও সেদিনের সেই ঘটনা অনেক সময় কিন্তু মীরের চোখে জল এনে দেয়। আসলে লড়াই করে যে মানুষ জীবনে অনেক দূর এগিয়ে আসতে পারে মীর হলেন তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।। সেদিনের লড়াইয়ের পর কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েন নি। জানা যায়,তার বাবা যে কারখানায় কাজ করতেন সেখানে তাদের থাকার জায়গা হয় কিন্তু তার বাবা মীরকে তাদের দেশের বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

এরপরে অনেক স্ট্রাগল করে তার বড় হওয়া এবং কলকাতায় এসে তিনি যখন লন্ড্রিতে জামা কাপড় দিতে যাচ্ছেন তখন সেই কাগজে রেডিও মিরচির বিজ্ঞাপন ছিল নতুন রেডিও জকি খোঁজা হচ্ছে। এর পরেই ১৯৯৮ সালে রেডিও মির্চিতে উপস্থিত হন সকলের প্রিয় মীর। এরপর আর তাকে কখনো কিন্তু পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

দীর্ঘ সময় রেডিও মির্চিতে একজন জকি হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তার কন্ঠে রেডিওমিরচির বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সানডে সাসপেন্স হয়তো কখনোই মানুষ ভুলতে পারবেন না। মীরের জীবনের এই গল্প আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে শেয়ার করে নিতে পারেন।। অন্য কারোর ব্যাপারে জানতে হলে সেটাও আপনারা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে পারেন।

Back to top button