দেশে প্রথম, কোনও মহিলার নামে রেল স্টেশন এই বাংলায়, জানেন কি?

নিজস্ব প্রতিবেদন : বেলা মিত্র (Bela Mitra) ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রাম যুগের মহীয়সী নারীদের মধ্যে অন্যতম একজন। তিনি বরাবর প্রচারের আলো থেকে দূরে সরে থেকেই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছেন। অদম্য সাহসিকতার এই নারীকে সম্মানপ্রদানের উদ্দেশ্যে ভারতীয় সরকারের তরফে তাঁর নামে এক স্টেশন নামাঙ্কিত রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনের এক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ‘বেলানগর’। ১৯৫৮ সালের ২৩ নভেম্বর বেলা মিত্রের নামে এই স্টেশনটির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন ভারতীয় রেলের উপমন্ত্রী তথা আজাদ হিন্দ বাহিনীতে (Azad Hind Fauj) বেলার সহযোদ্ধা শাহনওয়াজ খান (Shah Nawaz Khan)। অভয়নগর উদ্বাস্তু কলোনির কাছে অবস্থিত এই স্টেশন‌ই ভারতবর্ষের প্রথম স্টেশন যা কোনো মহিলার নামে নামকরণ করা হয়েছিল।

বেলা মিত্র ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose)-র দাদা সুরেশচন্দ্র বসুর ছোট মেয়ে। ২৪ পরগনা জেলার কোদালিয়া এলাকার বাসিন্দা বেলা ১৯৩৬ সালে যশোরের বাসিন্দা হরিদাস মিত্রের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বিয়ের পর ১৯৩৮ সালে শ্বশুড়বাড়িতে এক মহিলা সমিতির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপরে ১৯৪০ সালে নেতাজির আপস-বিরোধী সম্মেলনের পরে ১৯ বছর বয়সী কিশোরী বেলা মহিলা কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

বেলা মিত্র ও তাঁর স্বামী ১৯৪৪ সালে কলকাতা থেকে সিঙ্গাপুরে গোপনে বার্তা প্রেরণ করতেন। ১৯৪৫ সালে হরিদাস মিত্র (Haridas Mitra) গ্রেফতার হয়েছিলেন। এরপরে হরিদাস-সহ আরো ২১ জন বন্দী বিপ্লবীর ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়েছিল। সকলের ফাঁসি আটকাতে সাহায্যপ্রার্থী বেলা মিত্র পুণেতে গিয়ে গান্ধীজির শরণাপন্ন হয়েছিলেন।

বেলার দেশের প্রতি ভক্তি ও সকলের প্রতি সমান মনোভাব দেখে গান্ধীজী (Gandhiji) পত্রালাপের মাধ্যমে বন্দীদের ফাঁসি রদ করে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরে পরিবর্তন করতে সফল হয়েছিলেন। আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আড়াল থেকেই মহিয়সী বেলা দেবী বিপ্লবীদের সহায়তা করেছিলেন। ১৯৫২ সালের ৩১ জুলাই মাত্র ৩২ বছর বয়সেই বেলা মিত্রের জীবনাবসান ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button