এবার বাড়িতে টবেই করতে পারবেন শসা চাষ, কিভাবে করবেন এই চাষ? জেনে নিন সম্পূর্ণ পদ্ধতি!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- আজকাল অনেক বাড়িতেই কিন্তু কিচেন গার্ডেন বা ছাদ বাগানের সাহায্যে অনেক ধরনের সবজি আর ফলমূল চাষ করা হয়ে থাকে। এই সমস্ত ফলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো শসা। শসা কিন্তু শুধু ফল হিসেবে নয় তরকারি হিসেবে ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যারা বাড়িতে টবের মধ্যে বা অল্প জায়গার মধ্যে শসা চাষ করতে চাইছেন তাদের জন্য আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং আপনিও যদি এভাবে চাষ করতে চান তাহলে কিন্তু এটি একেবারেই মিস করবেন না। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের বলব ঠিক কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করলে তবে মধ্যে শসা চাষ করে এই মাত্র ৩৫ দিনে আপনারা ভালো ফলন পেতে পারেন। শুধুমাত্র স্টেপ বাই স্টেপ পদ্ধতি নয়, কিভাবে এই গাছের পরিচর্যা করতে হবে এবং কেমন ভাবে লাগাতে হবে গাছ সবকিছু নিয়েই কিন্তু বিস্তারিত জানানো হবে। চলুন তাহলে আর দেরি না করে শুরু করা যাক। 

  • তবে শশা চাষ করে বাম্পার ফলন পাওয়ার স্টেপ বাই স্টেপ পদ্ধতি:

১) শশা চাষ করার জন্য একটি পরিমান সাইজের টব আপনাদের প্রথমেই জোগাড় করে নিতে হবে। আপনারা চাইলে যে কোন সাইজের টব নিতে পারেন তবে যদি একটু বড় আকারের টব নেন তাহলে শসা গাছ ভালো হবে।

এবার আপনাদের টবের মধ্যে ঝুরঝুরে দোয়াশ মাটি নিয়ে নিতে হবে। যেকোনো সবজি চাষ করার ক্ষেত্রেই কিন্তু মাটি ঝুরঝুরে হওয়া অত্যাবশ্যক। এরকম মাটি যদি হয়, তাহলে খুব সহজেই গাছের শিকড় গুলি চলাচল করতে পারে।

আপনাদের প্রথম এই টবের মধ্যে শসার বীজ লাগিয়ে দিতে হবে। এই বীজ আপনারা খুব সহজেই যে কোন নার্সারীর দোকানে কিনতে পেয়ে যাবেন। বীজ লাগাতে কোন সমস্যা থাকে তাহলে আপনারা কিন্তু সোজাসুজি শসার চারাও লাগিয়ে নিতে পারেন। বীজ লাগাতে হলে অবশ্যই তাকে কিছুক্ষণ সময় আগে থেকে জলে ভিজিয়ে রাখতে ভুলবেন না। এতে খুব তাড়াতাড়ি বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম হবে।

২) মোটামুটি ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই কিন্তু এই বীজগুলি থেকে সহজে চারা বেরিয়ে যাবে। নিয়মিত এবারে এই চারাগুলির মধ্যে আপনাদের পরিমাণ অনুযায়ী জল দিতে থাকতে হবে। আরো কয়েক দিনের মধ্যে দেখবেন ধীরে ধীরে চারা কিন্তু বড় হয়ে গিয়েছে। সেই পর্যায়ে আপনাদের গাছের মধ্যে কিছুটা হলেও জৈব সারের প্রয়োগ করতেই হবে। জৈব সার না থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে পারেন।

রাসায়নিক সার হিসেবে ডিএসপি ইউরিয়া আর পটাশ সার আপনারা ব্যবহার করতে পারেন। আমরা বলবো যে যদি জৈব সার ব্যবহার করেন সেটাই কিন্তু বেশি ভালো হবে। গাছের গোড়ার চার ধারে কিছুটা পরিমাণ হাড়ের গুঁড়ো আপনারা দিয়ে দিতে পারেন। এটার মধ্যে গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এছাড়াও আপনারা কিন্তু বাজার থেকে সহজেই শসা গাছের গোড়ায় দেওয়ার জন্য জৈব সার কিনে নিতে পারেন।

এর মধ্যে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সালফার জিংক সহ প্রচুর পরিমাণে উপাদান রয়েছে যা গাছের বৃদ্ধিতে সহায়ক। গাছের গোড়া থেকে কিছুটা দূরবর্তী অংশে এই সার প্রয়োগ করতে হবে। অন্ততপক্ষে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আপনাদের এই সার প্রয়োগ করতে হবে।

জৈব সার দেওয়ার পর আপনারা কিন্তু চাইলে গোবর সার দিয়ে একটা আস্তরণ তৈরি করে ঢেকে দিতে পারেন। যেহেতু এগুলি জৈব সার তাই দেওয়ার পর সহজেই জল ব্যবহার করা যাবে।

৩) এবার শশা গাছ যখন আরো বড় হতে শুরু করবে তখন একটি বাঁশের খুটির সাহায্যে আপনাদের মাচা দিয়ে দিতে হবে। এভাবে যদি আপনারা মাচা তৈরি করে দেন তাহলে খুব সহজেই শসা গাছ বৃদ্ধি পাবে এবং লতা বেরিয়ে যাবে। এই সময় কিন্তু ধীরে ধীরে দেখবেন গাছের মধ্যে ফুল ফুটতে শুরু করেছে।

মোটামুটি সঠিকভাবে যদি আপনারা পরিচর্যা করেন তাহলে ৩৫ দিনের মাথাতেই কিন্তু গাছের মধ্যে আপনারা শসার ফলন শুরু হয়ে যেতে দেখবেন।

উপরের যে পদ্ধতিগুলি আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিলাম সেভাবে যদি আপনারা নিয়মিত পরিচর্যা করে শশা গাছ বাড়িতে লাগাতে পারেন তাহলে কিন্তু আর কোন চিন্তা থাকবে না। মোটামুটি ৩৫ দিনের শেষেই আপনার টবে লাগানো শসা গাছে কিন্তু বাম্পার ফলন শুরু হয়ে যাবে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি ভালো লেগে থাকলে আপনারা অবশ্যই লাইক,শেয়ার আর কমেন্ট করতে পারেন।

Back to top button