“চারটে নয়! প্রয়োজনে আমি দশটা স্বামী বানাবো! তাতে আপনার কি?”, মেজাজ হারিয়ে বিস্ফোরক শ্রাবন্তী

নিজস্ব প্রতিবেদন: আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া, আমাদের জীবনের একটি ওতপ্রোত অঙ্গে রূপান্তরিত হয়েছে। বিশেষ করে লকডাউনের পর  থেকে কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার যেন একধাক্কাতেই বেড়ে গিয়েছে। ৮ থেকে ৮০ সকল বয়সের মানুষ এখন সোশ্যাল মিডিয়ার বাসিন্দা হয়ে উঠেছেন। কাজের ফাঁকে হোক কিংবা কাজের মাঝে একবার যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ না রাখলে একেবারেই চলেনা।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ার কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ভালো আর খারাপ দিক দুটোই রয়েছে। ভালো দিক বলতে আমরা সবার প্রথমে একথা বলতে পারি যে এই নেট মাধ্যমের সাহায্যে আজকাল বহু মানুষের প্রতিভা খুব সহজেই সামনে চলে আসছে। আগেকার দিনে সাধারণত টেলিভিশন বা রেডিওর উপর মানুষকে নির্ভর করতে হতো প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর জন্য। কিন্তু বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে মানুষ খুব সহজেই কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে এবং পরিচিতি পাচ্ছে।

যে কোন জিনিসের যেমন ভালো দিকের পাশাপাশি কিছু খারাপ দিকে থাকে, নেট মাধ্যমের ক্ষেত্রেও ঠিক কিন্তু একই কথা বলা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে আজকাল সাইবার অপরাধের সংখ্যা বহুল পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পরিমাণে নেট মাধ্যম ব্যবহার করার কারণে কিন্তু তরুন তরুণীদের উপর শারীরিক এবং মানসিক প্রভাব পড়ছে।

তারা বেশিরভাগ সময় টাই ফোনে কাটিয়ে দিচ্ছেন অথবা পারিবারিক এবং সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন। তবে যাই হোক না কেন বর্তমানের সমাজে ইন্টারনেট জগতের ভূমিকাকে কিন্তু অস্বীকার করা যায় না। সাধারণ মানুষ বা সেলিব্রিটি সকলেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত। যে কোন জিনিস এখানে ভাইরাল হয়ে ওঠে।

টলিউডের প্রথম সারির নায়িকা শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় কে আপনারা প্রায় কম বেশি সকলেই চেনেন। ১৯৯৭ সালে একটি ছবির মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখলেও ২০০৩ সালের চ্যাম্পিয়ন ছিল তার এমন একটি ছবি জয় ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে পরিচিতি এনে দেয়। এরপর বিগত বছর গুলিতে একের পর এক সুপারহিট চলচ্চিত্র দর্শকদের উপহার দিয়েছেন এই মিষ্টি নায়িকা। তবে অভিনয় জীবনের থেকে তিনি ব্যক্তিগত জীবনের কারণে কিন্তু মানুষের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

তবে সেটাকে জনপ্রিয়তা বলা যায়না বিতর্কতা সেটা নিয়ে কিন্তু বেশ সন্দেহ রয়েছে। প্রসঙ্গত ২০০৩ সালে পরিচালক রাজিব কুমার বিশ্বাসকে বিয়ে করেছিলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। তাদের ঝিনুক নামে এক পুত্র সন্তানেরও জন্ম হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে আচমকাই পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে শ্রাবন্তী আর রাজিবের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

এরপর এক উঠতি মডেল কৃষাণ ব্রজ কে বিয়ে করেছিলেন শ্রাবন্তী। কিন্তু সেই সম্পর্কও বছরখানেকের বেশি টেকেনি। শেষবারের মতন ২০১৯ সালে রোশান সিং কে বিয়ে করেন নায়িকা। প্রথমদিকে তাদের সুখী দাম্পত্যের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাঘুরি করলেও আবারও বছরখানেকের মাথাতেই নায়িকার সংসার ভেঙে যায়।

তৃতীয় বার বিবাহ বিচ্ছেদের পরে নেট মাধ্যমের চরম trolling এর মুখোমুখি হয়েছিলেন শ্রাবন্তী। বিশেষ করে ব্যবসায়ী অভিরূপ নাগ চৌধুরীর সঙ্গে তার চতুর্থ বার সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় এই বিতর্ক যেন আরো মাত্রাতিরিক্ত রূপ ধারণ করেছিল। তবে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সকলকে কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী।

প্রসঙ্গত এক ইভেন্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবার পর অভিনেত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয় যে তিনি রোশান সিং এর কাছে আর ফিরবেন কিনা? নাকি এবারে চতুর্থ বার বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন? এই প্রশ্ন শোনার পরেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন শ্রাবন্তী এবং অত্যন্ত কড়া ভাষায় তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো কথা তিনি বলতে চান না। যদি দরকার পড়ে আমি দশটা বিয়ে করবো। সেটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

Back to top button