খুব সহজে বাড়িতে বানিয়ে ফেলুন এই দুর্দান্ত নিরামিষ সয়াবিন কারি! স্বাদে হবে দুর্দান্ত, চেটে পুটে থালা হবে সাফ!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- আমাদের অনেকের বাড়িতে কিন্তু আমিষ আর নিরামিষ দিনে আলাদা রকমের রান্না হয়ে থাকে। নিরামিষ দিনগুলিতে কি রান্না করা হবে সেগুলি নিয়ে অনেক গৃহিনীরাই অত্যন্ত সমস্যায় ভুগে থাকেন। তাই আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে গৃহিণীদের সেই সমস্যার সমাধান করতে আমরা নিয়ে এসেছি একটি বিশেষ রেসিপি। আজকে আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চলেছি সম্পূর্ণ নিরামিষ পদ্ধতিতে তৈরি সয়াবিন কারির রেসিপি।

আপনারা এর আগেও নিশ্চয়ই কম বেশি অনেকেই সোয়াবিনের কারি খেয়েছেন। তবে আজকে যে পদ্ধতিতে আমরা এই রেসিপিটি রান্না করবো সেভাবে তৈরি করলে কিন্তু একেবারে অমৃতের মতন খেতে লাগবে। অনেকেই কিন্তু নিরামিষ খাবার খেতে পছন্দ করেন না। যদি আপনার বাড়িতেও এমন কোন ব্যক্তি থাকেন যারা নিরামিষ খাবার খেতে পছন্দ করেন না তাহলে অতি অবশ্যই আমাদের এই প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ে রেসিপিটি চটজলদি শিখে নিন।

  • সয়াবিন কারি তৈরির পদ্ধতি:

১) এই রেসিপিটি তৈরি করার জন্য প্রথমেই একটি কড়াই এর মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল দিয়ে তা ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। জল ভালোভাবে ফুটতে শুরু করলে এর মধ্যে আপনাদের দেড় প্যাকেট পরিমাণ সয়াবিন দিয়ে দিতে হবে। আপনারা কিন্তু নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী সয়াবিনের বড়ির পরিমাণ কম বেশি করতেই পারেন। এরপর ভালো করে দুই থেকে তিন মিনিট সময় পর্যন্ত আপনাদের এগুলি ফুটিয়ে নিতে হবে।

গরম জল থেকে এবার আপনাদের এগুলো তুলে ভালো করে জল ঝরিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রত্যেকটা সয়াবিনকে আলাদা করে চিপে ভালো করে জল কিন্তু ঝেড়ে নিন। যদি বড়ির আকার অত্যন্ত বেশি রকমের বড় থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই হাত দিয়ে আপনারা এগুলোকে সামান্য ছিড়ে ছোট করে নিতে পারেন।

এবার রান্না করার জন্য আপনাদের কড়াইতে তিন টেবিল চামচ পরিমাণ সরষের তেল দিয়ে দিতে হবে। তেল গরম হয়ে গেলে এতে একটা মিডিয়াম সাইজের টুকরো করা আলু ভালো করে দিয়ে ভেজে নিতে হবে। আলু ভেজে নেওয়া হয়ে গেলে একটা পাত্রের উপর তুলে আলাদা করে রেখে দিন।

২) এবার ওই তেলের মধ্যেই আপনাদেরকে দ্বিতীয় ধাপে সয়াবিনের বড়ি দিয়ে দিতে হবে। লো টু মিডিয়াম ফ্লেমে এগুলিকে ভালো করে ভেজে নিন। আলুর মতন এগুলো কেউ ভেজে নেওয়া হয়ে গেলে আলাদা পাত্রে তুলে রাখুন।

আবারো ওই একই কড়াই এর মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরষের তেল দিয়ে দিন। তেল ভালো করে গরম হয়ে গেলে ফোড়নের জন্য আপনাদের দিয়ে দিতে হবে একটি তেজপাতা, হাফ চা চামচ গোটা জিরা, দুইটি শুকনো লঙ্কা, একটি দারচিনি, তিনটে ছোট এলাচ ,পাঁচ থেকে ছটি লবঙ্গ, হাফ চা চামচ ধনে। এরপর মসলাগুলোকে আপনাকে কয়েক মিনিট ভালো করে ভেজে নিতে হবে। যখন মসলা গুলি থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করবে তখন এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে এক চা চামচ আদা বাটা এবং সামান্য পরিমাণে হীং। এই দুটো উপকরণ ব্যবহার করলে কিন্তু যে কোন রান্নার গন্ধই খুব ভালো হয়।

বিশেষ করে নিরামিষ রান্না তে কিন্তু হিং দিলে খুবই ভালো লাগে। যতক্ষণ পর্যন্ত না আদার কাঁচা গন্ধ চলে যাচ্ছে ততক্ষণ হালকা করে ভেজে নিন। এরমধ্যে দুটি টমেটো এর মধ্যে পেস্ট করে দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এক চা চামচ কাঁচালঙ্কা বাটা দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে নিন। মসলা যত ভালো করে কষিয়ে নেওয়া হবে ততই কিন্তু আপনাদের রান্নার স্বাদ ভালো হবে।

৩) তৃতীয় ধাপে এই মসলার মিশ্রণের মধ্যে আপনাকে যোগ করে দিতে হবে দেড় চা চামচ পরিমাণ জিরা গুঁড়ো, হাফ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, ২ চা চামচ কাশ্মীরি লাল লঙ্কার গুঁড়ো। ভালো করে মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্নাটিকে কষিয়ে নিন।

মসলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে এর মধ্যে স্বাদ অনুযায়ী লবণ আর আগে থেকে ভেজে রাখা আলুর টুকরো গুলিকে দিয়ে দিতে হবে। আলু মশলার সাথে ভালোভাবে মিশে গেলে এরমধ্যে ভাজা সয়াবিন বড়ি গুলি কেউ দিয়ে দিতে হবে।

অবশ্যই কিন্তু সোয়াবিন একটু ভালো করে নাড়াচাড়া করে নিতে ভুলবেন না যাতে এটি মসলার সাথে মিশে যায়। এরপর এর মধ্যে আপনাদের গরম জল মিশিয়ে দিতে হবে। গরম জলে রান্না করলে কিন্তু তার স্বাদ খুবই ভালো হয়। আপনারা যতটা গ্রেভি রাখতে চান ঠিক ততটাই জল কিন্তু আপনাদের এখানে ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু আপনারা জল দিয়েছেন তাই প্রয়োজন হলে খুব সামান্য লবণ দিয়ে দিতে পারেন। ও স্বাদ বজায় রাখতে সামান্য চিনি যোগ করতে পারেন।

৫ থেকে ৬ মিনিট সময় পর্যন্ত আরো কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিতে হবে রান্নাটিকে যাতে আলু আর সয়াবিন ভালো করে সেদ্ধ হয়ে যায়। সবশেষে নামিয়ে নিন এবং গরম ভাতের সাথে এই নিরামিষ সয়াবিন কারি পরিবেশন করুন।

Back to top button