কিশোর কুমারকে ছেড়ে মিঠুনের সাথে সংসার! শ্রীদেবীর জন্যে দাম্পত্য জীবনে নেমেছিল আঁধার, জানেন কেমন আছেন যোগীতা বালি?

নিজস্ব প্রতিবেদন: একটা সময় ইন্ডাস্ট্রিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন যোগিতা বালি। তিনি যেমন বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন ঠিক তেমনভাবেই কিন্তু সেই জায়গা বিয়ের পর ছেড়েও দিয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেব তার জীবনের কিছু অজানা ইতিহাস যা হয়তো আপনাদেরকে অবাক করতে বাধ্য করবে। ১৯৫২ সালের ১৩ ই আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন যোগিতা বালি। বলিউডের আরেক নায়িকা তথা শাম্মি কাপুরের স্ত্রী ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। কাপুর পরিবারের ধারা ভেঙে তিনি বিয়ের পরেও নিজের কেরিয়ার বজায় রেখেছিলেন।

কিন্তু যোগিতা সেই পথে যান নি। ১৯৭১ সালে যোগিতা বালি অভিনীত প্রথম ছবি মুক্তি পেয়েছিল। এই ছবিতে জনপ্রিয় অমিতাভ বচ্চনের মতন তারকার সঙ্গে তিনি কাজ করেছিলেন। এই ছবি তাকে পরিচিতি এনে দিলেও পায়ের নিচের জমি মজবুত করতে তার কিন্তু অনেকটাই সময় লেগেছিল। গঙ্গা তেরি পানি অমৃত, মেমসাহাব, জামিন আসমান, ঝিল কে উসপার, অজনবী যোগিতা বালির এই ছবিগুলি বক্স অফিসে কম বেশি সফল হয়েছিল। তবে তিনি কখনোই কিন্তু পরিচালকের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠতে পারেননি সেই সময়। প্রথম সারির কোন নায়িকার ছবি প্রত্যাখ্যান করলে তবেই তার কাছে অভিনয়ের অফার আসতো বলা যায়।

তার ফিল্মোগ্রাফিতে উল্লেখযোগ্য ছবি হলো মেহবুবা,লাগান,রাজতিলক এবং আখরি বদলা। ১৮ বছরের মধ্যে তিনি ৬০ টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে কিশোর কুমার কে বিয়ে করেছিলেন যোগিতা বালি। তিনি ছিলেন কিশোর কুমারের তৃতীয় স্ত্রী। তবে মাত্র দুই বছর তাদের এই সংসার জীবন স্থায়ী হয়। এরপর শুটিং করতে গিয়ে তার মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে আলাপ হয়। মিঠুন চক্রবর্তীর প্রেমে পড়ে কিশোর কুমারের কাছ থেকে দূরে সরে আসেন যোগিতা বালি।

এর ফলে কিশোর কুমারের সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তীর বিরোধ রীতিমতন চরম পর্যায়ে উঠে গিয়েছিল। এর জন্য গান গাইতে ও অস্বীকার করেছিলেন কিশোর কুমার। যার ফলস্বরূপ বাপ্পি লাহিড়ীর যাত্রাপথ অনেকটাই সুগম হয়ে ওঠে। যদিও ত্রিকোণ প্রেমের এই ঘটনা কখনোই স্বীকার করে নেন নি কিশোর কুমার। কিশোর কুমারের দাবি ছিল যোগীতার সঙ্গে তার দাম্পত্য ছিল নিছক রসিকতা। নিজের বাড়ি ছেড়ে কিশোর কুমারের সঙ্গে সংসার করতে একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না যোগিতা এমনটাই জানিয়েছিলেন গায়ক।

অন্যদিকে যোগিতার আগেও মিঠুনের জীবনে এসেছিল অনেক নারী। ৭০ এর দশকে বলিউডের আরো একজন গ্ল্যামার অভিনেত্রী ছিলেন হেলেনা লুক। তার সঙ্গেও মিঠুন চক্রবর্তীর সম্পর্কের গুজব বারংবার শোনা গিয়েছিল সেই সময়। এরপর তাদের বিয়েও হয় ।তবে খুব বেশিদিন সেই সংসার টেকেনি। হেলেনার সঙ্গে বিয়ে নিয়ে কখনোই কিছু জানাননি মিঠুন চক্রবর্তী। অন্যদিকে এক সাক্ষাৎকারে যোগিতা বালি জানিয়েছিলেন বিয়ের পর সংসার করতে চান তিনি।

তার এই বক্তব্যে সম্পূর্ণরূপে সায় দিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। ১৯৭৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। যোগিতার অভিনয় ছেড়ে দেওয়া নিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে তার কোন বিরোধ ছিল না। তবে বিরোধ দেখা দিল অন্যত্র। আশির দশকে বলিউডের ঝড় তুলেছিল মিঠুন শ্রীদেবীর জুটি। এই ঝড়েই তছনছ হয়ে গিয়েছিল যোগিতা বালির সংসার। মিঠুন শ্রীদেবীর বিয়ে নিয়েও বলিউডের আনাচে-কানাচে অনেক জল্পনা শুনতে পাওয়া যায়। একসময় শোনা গিয়েছিল দুই ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন যোগিতা। তবে বিবাহ বিচ্ছেদে রাজি ছিলেন না মিঠুন অথবা যোগিতা কেউই।

এই সময়ে তাদের মাঝখান থেকে সরে যান শ্রীদেবী। কারণ নায়কের জীবনে দ্বিতীয় নারী হিসেবে থাকতে একেবারেই রাজি ছিলেন না তিনি। মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে সরে আসার পরে শ্রীদেবী বিয়ে করেন পরিচালক বনি কাপুরকে। এরপরেই মিঠুন আর শ্রীদেবীর ব্যক্তিগত জীবন চলে যায় প্রচারের আড়ালে। বর্তমানে তিন সন্তান এবং এক দত্তক কন্যাকে নিয়ে যোগিতা বালির সঙ্গেই সুখের সংসার করছেন মিঠুন চক্রবর্তী। এই অভিনেত্রীকে আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই নিজেদের মতামত আমাদের সঙ্গে কমেন্ট বক্সে শেয়ার করে নিতে ভুলবেন না।

Back to top button