শিশু বা বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগা সারানোর ৮ টি দারুন টিপস, জেনে নিন

নিজস্ব প্রতিবেদন : অনেক এমন শিশুরা রয়েছে যাদের ছোটবেলা থেকেই কিন্তু প্রচুর ঠান্ডা লাগার ধাত থাকে। নানান ধরনের ওষুধ পত্র খেয়েও এই ঠান্ডার ধাত তাদের কমে যায় না। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনের তাই আমরা এমন কিছু জিনিস সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করে নিতে চলেছি যাতে আপনারা শিশুদের ঠান্ডা লাগলে কি কি করা উচিত সেই সম্পর্কে জেনে নিতে পারবেন।

প্রথমেই আপনাদের জানিয়ে রাখি এক থেকে বারো বছর বয়সী শিশুদের কিন্তু খুব বেশি ঠান্ডা লাগে। এদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক সময় সর্দি-কাশিকে কিন্তু বাধা দিতে পারে না। সুতরাং অবশ্যই আপনার সন্তানের শরীরের প্রতি কিন্তু ছোট থেকেই বিশেষ ভাবে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক শিশুদের ঠান্ডা লাগলে বা ঠান্ডা লাগা আটকানোর জন্য কি কি করণীয়!

১) শিশুকে প্রথম দিন থেকেই কিন্তু নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ পান করানো তে অভ্যস্ত করতে হবে।। অনেক ক্ষেত্রেই কি হয় মায়েরা ব্রেস্ট ফিডিং না করিয়ে বাইরের কোন দুধ শিশুকে খাইয়ে থাকে। এতে কিন্তু শিশুর মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজে ঠান্ডা লাগে। তাই যতদিন পর্যন্ত না শিশুর দেহে ভালোভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি করার মত অবস্থা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আপনারা অবশ্যই শিশুকে ব্রেস্ট ফিডিং করানোর চেষ্টা করুন।।

২) যখন শিশুদের প্রথমবার ঠান্ডা লাগে দেখবেন তাদের নাক থেকে একেবারে পাতলা জলের মতন বের হয়। এতে কিন্তু অনেক সময় তাদের নাক বন্ধ হয়ে যায় এবং নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই অবশ্যই তাদের নাক এই সময় নিয়মিত পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন।

৩) শিশুদের নিয়মিত সর্ষের তেল দিয়ে বডি ম্যাসাজ করার চেষ্টা করবেন। এতে সর্দি-কাশি এবং ঠান্ডা লাগা জাতীয় ভাব থেকে কিন্তু শিশুরা অনেকটাই দূরে থাকে। পাশাপাশি শিশুদের ত্বকের জন্যও সরষের তেল কিন্তু একটি অত্যন্ত উপকারী জিনিস।

৪) স্টিম নেওয়া বা নেবুলাইজার ব্যবহার করা কিন্তু এখন খুবই কমন একটি ব্যাপার। তাই আপনার শিশুর যদি খুব বেশি ঠান্ডা লেগে থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে স্টিম নেয়া করাতে পারেন। অনেক বাড়িতেই কিন্তু নেবুলাইজার থাকে না সুতরাং আপনাদের বিকল্প ব্যবস্থাটি গ্রহণ করতে হবে।।

SanyaSM/Getty Images

৫) অনেক সময় দেখা যায় শিশুদেরকে মায়েরা ঠান্ডা জল দিয়ে স্নান করিয়ে থাকেন। এটি কিন্তু একেবারেই উচিত নয় কারণ এতে খুব দ্রুত তাদের ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। যে কোন ঋতুতেই কিন্তু কুসুম গরম জলে শিশুদের স্নান করানো উচিত। এতে যেমন তাদের ঠান্ডা কম লাগে ঠিক তেমনভাবেই তাদের ত্বক অত্যন্ত ভালো থাকে। এমনকি যদি কোনো কারণে তাদের ঠাণ্ডা লাগে তখনও স্নান বন্ধ না করে গরম জল দিয়ে কিন্তু গা স্পঞ্জ করে দেবেন।।

৬) স্নান করার আগে আপনারা অবশ্যই চেষ্টা করবেন বাচ্চার গায়ে ভালো করে সরিষার তেল মালিশ করে দেওয়ার। যেমন তার চট করে ঠান্ডা লাগবে না ঠিক তেমনভাবেই তাদের চামড়া অত্যন্ত ভালো থাকবে। তেল মালিশ করার কারণে সরাসরি জল কিন্তু গায়ে লাগে না যার ফল স্বরূপ কিছুটা হলেও ঠান্ডা লাগার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৭) স্নান করার পর ভালো করে শিশুকে গা মুছিয়ে দিতে হবে। কোনভাবেই যাতে তার শরীরে জল লেগে না থাকে। কারণ এই জল শরীরে বসে গেলে কিন্তু শিশুদের ঠান্ডা লেগে যেতে পারে বা যদি ঠান্ডা লাগা থাকে তা বেড়ে যেতে পারে।

৮) অবশেষে আমরা যে টিপসটির কথা বলব সেটা হচ্ছে যে শীতকালে অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু শিশুদের শুধুমাত্র একটা গরম জামা পরিয়ে বাড়িতে রেখে দেওয়া হয়।। এটা কিন্তু একেবারেই উচিত নয়। শীতকালে অবশ্যই শিশুদের ভালো করে সোয়েটার টুপি সহ মোজা পড়িয়ে আপনারা রাখবেন।। যেসব শিশুদের ঠান্ডার ধাত অত্যন্ত বেশি তাদের যদি এভাবে যত্ন না করা হয় সেক্ষেত্রে কিন্তু খুব দ্রুত রোগ ব্যাধি দেখা দেবে।

Back to top button