আপনার বাচ্চা পড়া মনে রাখছে না? জেনে নিন শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর সহজ ৭ উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদন :স্মৃতিশক্তি তুখোড় হলে অনেককিছুই জয় করা সহজ হয়ে যায়। স্মৃতি শক্তিশালী হলে নতুন জিনিস শিখতে এবং মুখস্ত করা সহজ হয়। এটি শিশুকে স্কুলে আরও ভালো পারফরম্যান্স করতে, অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করতে এবং প্রয়োজনীয় জীবন দক্ষতা তৈরি করতে সহায়তা করে।

শক্তিশালী স্মৃতি নিয়ে আমরা জন্ম নেই না। অন্য যেকোনো দক্ষতার মতো এটিও বিভিন্ন উপায়ে অর্জিত হয় এবং যত বেশি অনুশীলন করবেন ততই উন্নত হবে। শিশুর স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করার জন্য কিছু কৌশলের কথা প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া-

মেডিটেশন-মেডিটেশন শুধু বড়দের জন্য নয়। এটি শিশুদের জন্য একইভাবে কাজ করে। কীভাবে ধ্যান করতে হয় তা আপনার শিশুকে অল্প বয়সে শেখান। এতে করে ভালো অভ্যাস তৈরি হয়, যা তাদের দীর্ঘকালীন উপকারে আসে। মেডিটেশন শিশুকে কেবল শান্ত করে না, পাশাপাশিতাদের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে।

শরীরচর্চা-শরীরচর্চা করা আরেকটি অভ্যাস যা প্রত্যেকের প্রতিদিনের কাজের তালিকায় রাখা উচিত। শিশুদের প্রতিদিন শরীরচর্চার অভ্যাস থাকলে আরও ভালো। শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে তা মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখতে এবং তাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে।

শেখা এবং শেখানো-বলা হয়ে থাকে যে, আপনি যদি কিছু সত্যই বুঝতে পেরে থাকেন তবে অন্যের কাছে এটি ব্যাখ্যা করা সহজ। আপনার সন্তানের সাথে এই কৌশলটি ব্যবহার করুন। যখন তারা কোনো নতুন বিষয় শেখে, তাদের বা তাদের ছোট ভাইবোনকে শেখাতে বলুন। এটি তাদের তীক্ষ্ণ করবে এবং তাদের দ্বিধা পরিষ্কার করবে।

রং-শিশুর মস্তিষ্কে যেকোনো তথ্য দীর্ঘদিন রাখতে চাইলে রঙের ব্যবহার করুন। আমাদের মস্তিষ্ক প্রতি সেকেন্ডে কয়েক বিলিয়ন সংবেদনশীল তথ্যের একটি ছোট্ট অংশ ফিল্টার করে। রং হলো এমন একটি জিনিস যা সহজেই এই ফিল্টারে ধরা পড়ে। তাই দক্ষতার সাথে রং ব্যবহার করা উচিত। বিভিন্ন বর্ণের সাথে গুরুত্বপূর্ণ প্যাসেজ হাইলাইট করা এবং পাঠ্যপুস্তকে স্টিকি নোট ব্যবহার করা উপকারী হতে পারে।

ডিজিটাল ডিটক্স-বিভিন্ন গ্যাজেটের অত্যধিক ব্যবহার শিশুর মস্তিষ্কের কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে। এটি তাদের ঘনত্বের স্তর এবং তথ্য খুব দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখার ক্ষমতা হ্রাস করে। আপনার শিশুর গ্যাজেট ব্যবহারের সময় সীমাবদ্ধ করুন। এর পরিবর্তে তাদের বই পড়া এবং অন্যান্য বহিরঙ্গন ক্রিয়াকলাপে জড়িত হতে উৎসাহিত করুন।

ব্যক্তিগত উদাহরণ-আপনার শিশুকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যাখ্যা করার সময়, শক্তিশালী স্মৃতি তৈরি করতে ব্যক্তিগত উদাহরণ ব্যবহার করুন। বিষয়টির চারপাশের গল্প এটি দ্রুত মুখস্ত করতে সহায়তা করবে এবং এটি পুনরায় স্মরণ করা সহজ হবে। এটি মুখস্থ করার একটি মজাদার উপায়।

পুষ্টি-সঠিক পুষ্টি ব্যতীত, ভালো স্বাস্থ্য এবং ফিটনেস অর্জন করা কঠিন। আমাদের ডায়েট মস্তিষ্কসহ শরীরে সঞ্চালিত সমস্ত কার্যক্রমে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যকর ডায়েট মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে এবং পরবর্তী জীবনে স্মৃতিশক্তি হ্রাস রোধ করতে পারে। ওমেগা -৩, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ৭ জরুরি খাবার-কোন বাবা-মা চায় না বলুন তো, যে ছানা হবে তুখোড়, মেধাবী, স্মার্ট! আপনার বাসনাও যে তা-ই হবে, এ আর নতুন কী। তাই বলছি, একদম পুঁচকে বেলা থেকেই নজর দিন শিশুর পুষ্টি-বাড় বৃদ্ধির ওপর। ছয় মাস অবধি শুধুই মায়ের দুধই খাক একরত্তি। সলিড খাবার শুরুর সাথেই ধীরে ধীরে ওর খাবার তালিকায় ঢুকে পড়ুক সবুজ শাকসবজি।

মাস আষ্টেকের হলে ডিমের কুসুমের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন ওকে। আরও এক-দু’মাস পেরোলে খাবার তালিকায় ঢুকে পড়ুক টাটকা-তাজা মাছও। এভাবেই ধীরে ধীরে নানা ব্রেন বুস্টিং (Brain boosting) খাবারের সাথে মিলঝুল করিয়ে দিন আপনার ছানার। ওর ঝকঝকে আগামীর পথে তবেই আর বাধা থাকবে না কোনও। নীচে রইল কিছু খাবারের হদসি, যাতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে আপনার বাচ্চার। স্মৃতিশক্তি হবে প্রখর!

শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ৭ জরুরি খাবার

1. মায়ের দুধ (Breast Milk): এক্কেবারে পুঁচকি বেলা থেকেই নজর থাকুক শিশুর মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ওপর। অন্তত ছয় মাস শুধুু বুকের দুধই খাওয়ান ওকে। মায়ের দুধই ওকে করে তুলবে তুখোড়, মেধাবী!

2. ডিম (Egg): ৮ মাস থেকে কুসুম দিয়েই হোক ডিম-সূচনা। ডিম থেকেই প্রয়োজনীয় আয়রন পাবে একরত্তি। মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহও থাকবে নিয়মিত। বিকাশ হবে ওর চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার।

শুকনো ফল (Dry Fruits): আমন্ড-আখরোট, কাজু-কিশমিশ, খেজুরের মতো যেসব ফল শুকিয়ে রাখা যায়, বছর খানেক থেকেই বাচ্চার খাবার তালিকায় ঢুকিয়ে দিন সেসব। এতে ওর মেধার বিকাশ হবে খুব তাড়াতাড়ি।

জাম ও জামজাতীয় ফল (Berry like fruits): বছর খানেকের হলে খুদের খাবার তালিকায় রাখতে পারেন জাম, লিচু, স্ট্রবেরী, আঙুরের মতো ফল। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় রোধ করে, কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

শাকসবজি (Green Vegetables): সবুজ শাক-সবজি (বাঁধা কপি, পালং শাক)-তে থাকা ভিটামিন কে, বিটা ক্যারোটিন বাড়িয়ে তোলে আপনার শিশুর মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা। সেই সাথে জরুরি টমেটোও। টমেটোই বাড়াবে স্মৃতিশক্তি!

ডার্ক চকোলেট (Dark Chocolate): ডার্ক চকোলেটে থাকে ৭৫% কোকো যা বাড়ন্ত বাচ্চার মেধা ও বুদ্ধি বিকাশের জন্য খুবই উপকারী। ডার্ক চকোলেটই ওর মস্তিষ্কের নিউরন তৈরি করবে, নতুন জিনিস মনে রাখতে সাহায্য করবে!

সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেল (Omega-3 Fatty Acids):মস্তিষ্কে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিডের ৪০%-ই হচ্ছে ডিএইচএ, যার উৎস সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেল! আপনার দস্যিটির খাবার তালিকায় হপ্তায় অন্তত ৩টি দিন তাই মাছের পদ অবশ্যই রাখুন।

Leave a Comment