“আমি আধজীবনে অনেক পুণ্য করেছি, তাই আজ শোভন আমার”,- শোভনের ভালোবাসায় অন্ধ বৈশাখী!

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলার রাজনৈতিক জগতের দুটি অত্যন্ত পরিচিত নাম শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত কয়েক মাস ধরেই আর রাজনীতির অংশ নন তারা। সম্প্রতি কিছুদিন আগেই পেরিয়ে গিয়েছে দুর্গা পুজো। মহাষষ্ঠী উপলক্ষে এক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে উপস্থিত হয়েছিলেন এই দুজন। এদিন কে কতটা রোমান্টিক থেকে শুরু করে প্রায় অনেক অজানা কথা শোভন – বৈশাখী শেয়ার করে নেন একেবারে খোলামেলাভাবে।

আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেব শোভন আর বৈশাখীর সাক্ষাৎকারের কিছু এমন অংশ যা হয়তো অনেককেই অবাক করতে বাধ্য করবে। এদিন সাক্ষাৎকারের শুরুতেই বৈশাখী জানিয়েছেন শোভনকে পেয়ে তিনি অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করেন নিজেকে। এই কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বৈশাখীর বক্তব্য ছিল,‘আমি ভাগ্যবান,শোভন আমার’। তিনি বলেন,“আমাকে আমারই এক পরিচিত একদিন ফোন করে বলছেন, তাঁর মহিলা কলিগরা এখন একটাই কথা বলে, ‘আমাদের জীবনে একটা শোভন নেই কেন’? আমি বললাম, ভগবান যদি একজন শোভন তৈরি করেন, তা হলে সেটা আমার।”

এমনকি এদিন সাক্ষাৎকারে শোভনের দরাজ মনের কথাও সকলের সামনে তুলে ধরেন বৈশাখী। শোভনের কাছে একটা চাইলে, তিনটে এনে দেন। বৈশাখী অহেতুক পয়সা খরচের বিরুদ্ধে, কিন্তু শোভন বিশ্বাস করেন, শখ হলে আর পকেটে পয়সা থাকলে নিয়ে নাও। এরপরেই নিজেদের প্রথম পুজোর স্মৃতিচারণ করে বৈশাখী জানান,“শোভনদের একটা খাদ্যমেলা হতো পুজোয়। পুজোর আগে আমাদের অফিসে এসেছে একদিন। আমি ওকে বললাম, পুজো তো শুরু হয়ে গেছে। আপনি আমি দু’জনই ব্যস্ত হয়ে যাব, ক’দিন দেখা হবে না।

ও বলল, তুমি কী করছ সন্ধ্যাবেলায়? আমি মেয়েকে নিয়ে বেরোই। জিজ্ঞাসা করল ষষ্ঠীর দুপুরে কী প্ল্যান? আমি বললাম, বাড়িতেই থাকি। ষষ্ঠীর সকালে হঠাৎ বলছে, ১২টার মধ্যে রেডি হয়ে যেও। সেই খাদ্যমেলায় নিয়ে গিয়ে যত মিষ্টির দোকান সেখান থেকে নিজেও খাচ্ছে, আমাকেও খাওয়াচ্ছে”। বৈশাখীর এই বক্তব্য শেষ হতে না হতেই সাংবাদিক তাকে একটি বেশ মজাদার প্রশ্ন করে বসেন। বৈশাখীকে জিজ্ঞেস করা হয় শোভন কতটা রোমান্টিক? উত্তর দিতে গিয়ে তিনি জানান,“নম্বর দিতে হলে নেগেটিভে চলে যাবে।

যেমন, আমি খুব সুন্দর সেজে এসেছি, সকলে কমপ্লিমেন্ট দিচ্ছে, ও অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলেই আমার মনে হয় কোনও ভাল রিমার্কস আসবে না। তারপরই বলবে, টিপটা বাঁকা, শাড়ির ভাজে দাগ। কারও চোখে পড়বে না, শোভনের চোখে ঠিক পড়বে। তবে রোম্যান্সটাকে যদি জীবনের একটা গভীর জায়গা থেকে দেখো সেটার শাশ্বত রূপের প্রতিমূর্তি শোভন”। এখানেই থেমে থাকেননি শোভন— বৈশাখী।

তাদের সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শোভন বাবু স্পষ্ট ভাষায় উত্তর দেন, ‘মেড ফর ইচ আদার’। একই প্রশ্ন বৈশাখীর কাছে করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের একটা খুব পার্সোনাল চ্যাট এখানে তুলে ধরছি। ও যদি মেড ফর ইচ আদার লিখত। আমি লিখতাম ম্যাড ফর ইচ আদার। এটা হচ্ছে আমাদের দু’জনের রসায়ন। আমাদের দু’জনের একে অপরের প্রতি ভালবাসাও যেমন আছে, তেমন উন্মাদনাও আছে। সময় অনেক কিছু ফিকে করে দেয়। আমাদের ক্ষেত্রে গাঢ় হয়েছে”।

Back to top button