একটি ডিম ভালো না খারাপ কীভাবে বুঝবেন? জেনে নিন

নিজস্ব প্রতিবেদন : আজকের এই প্রতিবেদনটি শুরু করার আগে আপনারা হয়তো শিরোনাম পড়ে অনেকেই ভাবছেন যে ডিম ভালো না খারাপ সেটা তো খুব সহজেই গন্ধ শুঁকে বোঝা যেতে পারে। তবে পাঠকদের সুবিধার্থে জানিয়ে রাখি এই কথাটা কিন্তু একেবারেই ভুল। যদি ফ্রিজে রাখা কোন ডিম খারাপ অবস্থায় থাকে তাহলে কিন্তু আপনারা কোন রকমের পচা গন্ধ পাবেন না সুতরাং এটা বোঝাও মুশকিল ডিমটা ভালো অবস্থায় আছে না খারাপ!

সুতরাং পচা গন্ধ ছড়াও ডিম ভালো অবস্থায় আছে না খারাপ সেটা জেনে রাখার কিছু বিশেষ পদ্ধতি কিন্তু আপনাদের অবশ্যই জেনে নেওয়া প্রয়োজন। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা সেই বিষয়টি নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। তাহলে চলুন আর দেরি না করে আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করে ফেলা যাক।

  • ডিম ভালো অবস্থায় আছে না খারাপ বোঝার উপায়:

গন্ধ দিয়ে কিন্তু শুধুমাত্র কখনো ডিম ভালো অবস্থায় আছে না খারাপ সেটা বিচার করা যেতে পারে না। তাই আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা প্রধান পাঁচটি উপায় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি যার সাহায্যে আপনারা বুঝতে পারবেন ডিম ভালো অবস্থায় রয়েছে না খারাপ!

  • ১)ডিমের সাদা অংশ শক্ত না পাতলাঃ

ফ্রিজে বা যেখানেই আপনারা ডিম রাখুন না কেন সেটা ভালো অবস্থায় আছে কিনা বোঝার সবথেকে সহজ উপায় হচ্ছে, ডিম ভালো থাকলে ডিমের সাদা অংশ বেশ মোটা বা পুরু থাকে। এর জন্য আপনারা একটি সহজ পরীক্ষা অবশ্যই ট্রাই করে দেখতে পারেন।একটি পাত্রে জল গরম করে তাতে ডিম সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ হওয়ার পর ঠাণ্ডা জলে ডিমটি ২ মিনিট রাখুন। ২মিনিট পর খোসা ছাড়ান। খোসা ছাড়ানোর সময় যদি ডিমের সাদা অংশ খোসার সাথে উঠে না আসে তাহলে জানবেন ভালো আছে। কিন্তু খোসা ছাড়ালেই যদি খোসার গা লেগে সাদা অংশ পাতলা হয়ে উঠে আসছে তাহলে বুঝবেন এই ডিম কিন্তু নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সুতরাং সেটা আর না খাওয়াই ভালো।

  • ২)জলে ডিম দিয়ে পরীক্ষাঃ

ডিম ভালো রয়েছে না পচে গিয়েছে জানার সবথেকে ভালো উপায় হল,একটি পাত্রে বেশি করে জল নিন তাতে ডিম আলতো করে বসিয়ে দিন। যদি ডিম জলের নিচে বসে থাকে জানবেন একদম সতেজ। আর যদি কাত হয়ে ভাসতে থাকে বা জলের উপরে উঠে আসে তাহলে ডিমটি অনেক পুরনো। খুব বেশি পুরনো দিন হলে সেটা কিন্তু নষ্ট হয়ে যাওয়ার বা পচে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে। সুতরাং এই জাতীয় ডিম থেকে নিজের দূরত্ব বজায় রাখাই আপনাদের জন্য মঙ্গল।

  • ৩) ডিমের ভেতরের রংয়ের পরীক্ষাঃ

ভালো হোক বা খারাপ ডিমের বাইরের অংশ কিন্তু সবসময়তেই সাদা অবস্থায় থাকে। কিন্তু যদি ডিম নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে কিন্তু এর ভেতরের রঙে অনেকটাই পরিবর্তন চলে আসবে।খারাপ হয়ে গেলে হালকা বাদামি বা কালচে রঙ কুসুমের মধ্যে চলে আসে। ফ্রেস হলে হলদে হয় বা মাঝে মাঝে তাতে লালচে ভাব থাকে। সুতরাং আপনারা যখন ডিম ফেটিয়ে নেবেন তখন কিন্তু এই সমস্ত বিষয়গুলি উপর নজর রাখবেন।

  • ৪)মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ পরীক্ষা করুনঃ

যদি আপনারা প্যাকেটে রাখা ডিম খেয়ে থাকেন তাহলেই শুধুমাত্র এই তারিখ আপনারা যাচাই করতে পারবেন, নয়তো সম্ভব নয়।। কারণ এমনি ডিমের ট্রের গায়ে কিন্তু মেয়াদ লেখা থাকে না। তবে যদি ডিমের প্যাকেট কেনেন তাহলে কিন্তু সেখানে অবশ্যই মেয়াদ শেষের তারিখ বা এক্সপায়রি ডেট আপনারা দেখতে পেয়ে যাবেন। যদি তারিখ পেরিয়ে থাকে তাহলে কিন্তু সেই প্যাকেটের ডিম না খাওয়াই ভালো, কারণ এক্ষেত্রে বেশিরভাগ ডিমে কিন্তু খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। আর প্যাকেটের ডিমের মেয়াদ শেষে তারিখ যদি কাছাকাছি থাকে তাহলে কিন্তু খুব বেশিদিন এটাকে ফেলে রাখবেন না। নিয়ে আসার অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই খেয়ে নিন যাতে নষ্ট না হয়ে যায়।

  • ৫) লাইট দিয়ে ডিমের পরীক্ষাঃ

আজকের এই প্রতিবেদনের সবশেষে ডিম পরীক্ষা করার যে পদ্ধতিটি আমরা বলব সেটা কিন্তু বেশ মজাদার। আপনারা কিন্তু মোমবাতি ব্যবহার করে সহজেই ডিম ভাল না খারাপ সেটা বুঝে নিতে পারবেন এই পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতিতে ডিম পরীক্ষা করার জন্য মোমবাতির আলোর উৎসের উপর ডিমটি কাত করে বাম দিক থেকে ডান দিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখা হত ভিতরের কুসুম নড়ছে কিনা। এতে এটা স্পষ্ট বোঝা যায়। যদি কুসুম এক জায়গায় স্থির না থেকে নড়াচড়া করে তাহলে এটি খারাপ। স্থির থাকলে ভালো। তবে শুধুমাত্র মোমবাতি নয় এই কাজের জন্য কিন্তু আপনারা টর্চ লাইট বা ছোট রিডিং লাইট খুব সহজেই ব্যবহার করে নিতে পারেন।

সবশেষে বলবো ডিম আমরা খেয়ে থাকি শরীরে পুষ্টি উপাদান আনার জন্য। কিন্তু খারাপ ডিম গ্রহণ করলে কিন্তু কোন লাভ হবে না। সুতরাং আপনারা অবশ্যই সামান্য কিছু সময় অতিরিক্ত প্রয়োজন হলেও ডিম অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখার পরে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করুন।

যাতে আপনাদের শরীরে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি না হয় পাশাপাশি আপনাদের শরীরও সুস্থ থাকে। খারাপ বা পচা ডিম খেলে কিন্তু শরীর খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে বাচ্চা আর বয়স্কদের এই নষ্ট হয়ে যাওয়ার ডিম না খাওয়ানোই আপনার জন্য মঙ্গল। অবশ্যই উপরিউক্ত এই পাঁচ পদ্ধতির সাহায্যে কিভাবে ডিমের পরীক্ষা করতে হবে তা আপনারা ভালো করে জেনে নিলেন আজকে। তাই এবারে আর ডিম রান্না করার আগে কিন্তু পরীক্ষা করে নিতে ভুলে যাবেন না।

Back to top button