মাত্র ৯ বছর বয়সেই হারিয়েছেন বাবাকে! বিয়ের পিঁড়িতে বসেও আসেনি বর, অভিনেত্রী দেবলীনার এই অজানা গল্প শুনলে হবেন অবাক

নিজস্ব প্রতিবেদন: টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একজন অতি পরিচিত মুখ হলেন দেবলীনা দত্ত। শিশু শিল্পী হিসেবেই অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেছিলেন। মানুষ অমানুষ চলচ্চিত্রে প্রথমবার শিশু শিল্পীর ভূমিকায় তিনি অভিনয় করেছিলেন। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিক আর বেশ কিছু ওয়েব সিরিজে দেখা গিয়েছে দেবলিনাকে।

তবে ব্যক্তিগত জীবনে কিন্তু বারংবার চড়াই উতরাই এর মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন দেবলীনা। মাত্র নয় বছর বয়সেই বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠে এসেছে দেবলিনার একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও যেখানে ব্যক্তিগত জীবনের নানান অজানা কথা শেয়ার করে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

এই সাক্ষাৎকারের শুরুতেই দেবলীনা দত্ত জানান, “আমার নয় বছর বয়সেই লড়াই শুরু হয়েছিল। যখন আমার নয় বছর বয়স তখন পিতৃ বিয়োগ হয়। এরপর আমার মাকে এক, দুই,তিন চার করে বেশ কয়েকটি নিয়ম-কানুন এর মধ্যে ফেলে দেওয়া হল। এর মধ্যে রয়েছে সাদা শাড়ি ছাড়া অন্য কিছু পড়তে পারবেন না, আমিষ খেতে পারবেন না, লোক সমাজে খুব একটা বেরোতে পারবেন না। সে বয়সে মৃত্যু কিন্তু খুব ভালোভাবে বুঝতে পারিনি।

কষ্টে পাশে থাকা কিন্তু সব সময় সাহায্য করে না সেই কষ্টটাকে কিভাবে রিভার্স করা যায় সেটাই আমাদের বেশি সাহায্য করে। ওই কঠিন সময়টাতে মাকে রীতিমত ব্ল্যাকমেইল করে আমি সাধারণ জীবন যাপনে বাধ্য করেছিলাম। এরপর যখন আমি অভিনয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করলাম তখন থেকেই কিন্তু আমার পরিবারে আপত্তি সামনে এলো। তবে আমার মা কিন্তু খুব চেয়েছিলেন যে আমি যেন অভিনয় করি।

আমি যেমন একটা সময়ে মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম ঠিক তেমন ভাবেই সেই সময়টাতে কিন্তু তিনিও বাড়ির সকলের সঙ্গে লড়াই করে আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি চাইলেই বলতে পারতেন তুমি অন্য কোন প্রফেশন বেছে নাও। আমার মা সমাজের সাথে বহু লড়াই করেছেন যাতে আমি আমার ভালো লাগার প্রফেশনটাকে বেছে নিতে পারি”।

এরপর দেবলীনা বলেন, “আমি বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলাম কিন্তু বর আসেনি.. লোকজন আসছে খাচ্ছে দাচ্ছে চলে যাচ্ছে কিন্তু বর এলো না। কিন্তু বড় কথা কি জানেন তারপর কি করে উঠে দাঁড়ালাম? চাইলে আমি কিন্তু সেটা নিয়ে আক্ষেপ করতে পারতাম বা হয়তো একটা নেগেটিভিটি তৈরি হয়েছিল মানুষটাকে শাস্তি দেওয়া নিয়ে সেটাকেও আরো জোর দিতে পারতাম। যে আমার জীবনটাকে নষ্ট করে চলে গেল তাকে আমি মনে রাখবো না। কিন্তু তাতে তো আমার নিজের জীবনটাও নষ্ট হবে। তার কি কিছু হচ্ছে? কিছুই হচ্ছে না!

খারাপটাকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এই সময় যদি ভাল কোন বন্ধু আপনার পাশে দাঁড়ায় তাদেরকে অ্যাক্সেস দিন এবং তাদের হাত ধরে এগিয়ে যান। ওই সময়টা পেরিয়ে যাওয়ার পর আমি আমার জীবনের একটা সুন্দর নয় বছর কাটালাম। যেটা আমি আজীবন বলব আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ নয় বছর। আমাদের জুটিটাকে তোমরা ঠিক যতটা পছন্দ করতে আমিও ঠিক ততটাই পছন্দ করতাম”।

এরপর দেবলীনা সাক্ষাৎকারে জানান,“ ইদানিং তাকে অনেকেই প্রশ্ন করছে সেই মানুষটাকে ছাড়া তার প্রথম পুজো কেমন কাটছে? তাদের উদ্দেশ্যে বলবো আমার কাছে এখন পরিষ্কারভাবে দুটো চয়েস আছে। আমাদের মন খারাপ হয় স্মৃতির জন্য। কিন্তু সেই স্মৃতিগুলো যদি একজিস্ট না করে সেক্ষেত্রে সেগুলোর জন্য মন খারাপ করে বসে থাকারও তো কোন মানে হয় না।

তার থেকে ভালো চয়েস হচ্ছে যে সেই স্মৃতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে আরো কোনো ভালো নতুন স্মৃতি তৈরি করা যেগুলো নিয়ে আমরা বাঁচতে পারি। আমি কিন্তু বরাবর থেকেই একটা দ্বিতীয় চয়েজ বেছে নিয়ে এসেছি যেখানে আমি নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। ওই মানুষটা শিখিয়েছিল জন্মদিন পালন করতে আনন্দ করতে। চাইলে নয় বছরের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে থাকতে পারতাম। তবে তা না করে আমি আমার মা ভাইকে নিয়ে কিন্তু জমিয়ে জন্মদিন সেলিব্রেট করলাম।

ছোট থেকেই খুব স্কাই ড্রাইভিং করার ইচ্ছে ছিল। এই বছরের জন্মদিনে যখন আমি ঘুরতে গিয়ে সেটা করতে পারলাম তখন কিন্তু গত নয় বছরের স্মৃতিকে ছাড়িয়ে আমার একটা নতুন স্মৃতি তৈরি হয়ে গেল। আমি ধন্যবাদ দেব সেই মানুষটাকে যে আমাকে এভাবে জন্মদিন সেলিব্রেট করতে শিখিয়েছে”।

প্রসঙ্গত গত কয়েক মাস আগেই দীর্ঘ নয় বছরের দাম্পত্য সঙ্গী তথাগত মুখার্জির সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে দেবলীনা দত্তের। প্রথমদিকে শুধুমাত্র জল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে জানা যায় তথাগত’র পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই এই বিচ্ছেদ হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই লড়াকু দেবলীনা যেভাবে সম্পূর্ণ ব্যাপারটাকে সামলেছেন নিঃসন্দেহে কিন্তু তা প্রশংসার যোগ্য। ব্যক্তিগত জীবনে একের পর এক টানা পড়েন এর মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন দেবলীনা দত্ত।

তবুও নিজের বোধ বুদ্ধি আর বাস্তবতা দিয়ে সমস্ত স্তর তিনি পেরিয়ে চলে এসেছেন। সত্যি কথা বলতে তার এই সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি দেখেই বোঝা যায় যে জীবন নিয়ে তার গভীর দর্শন রয়েছে। সম্পর্কের ভাঙ্গনেও নিজেকে সামলাতে শিখে গিয়েছেন দেবলীনা। যদি প্রতিবেদনটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কিন্তু এই সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি দেখে নিতে ভুলবেন না। হয়তো জীবনের কোন একটা স্তরে এসে দেবলীনা দত্তের এই সাক্ষাৎকার আপনাকেও মানসিকভাবে শক্ত হতে সাহায্য করতে পারে।

Back to top button